শেখ হাসিনার ছেলে প্রধানমন্ত্রীা তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ছাত্র লীগের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বলেছেন, কোনো ধরনের সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা সহ্য করবে না আওয়ামী লীগ। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিরাপদ রাখতে হবে। কোনো ক্যাম্পাসে কেউ সন্ত্রাস বা বিশৃঙ্খলা করলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন। সরকার তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। দেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগের বদনাম হয়—এমন কাজ না করার জন্য নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্র লীগ হচ্ছে সবচেয়ে পুরাতন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এই ছাত্র লীগই আমাদের দেশে ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করেছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে ছাত্র লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্যে সজীব ওয়াজেদ জয় এ কথা বলেন। ছাত্র লীগে অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, যখন দল ক্ষমতায় থাকে, তখন প্রায় সবাই ছাত্র লীগ আর আওয়ামী লীগ হয়ে যায়। তারা নিজেদের দুর্নীতি ও লাভের জন্য আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাতে থাকে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চলছে। আমাদের দেশে একশ্রেণির মানুষ আছে, যারা কোনো দিন বাংলাদেশ চায়নি, তারা পাকিস্তানের এজেন্ট। তারাও অপপ্রচার চালাচ্ছে। কারণ, আওয়ামী লীগই বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে, তারা এটা সহ্য করতে পারে না। স্বাধীন বাংলাদেশ তারা সহ্য করতে পারে না। তাই তারা চায়— আওয়ামী লীগকে পঁচিয়ে দিতে, বাংলাদেশকে পচিয়ে দিতে। তবে তাদের এ ধরনের অপপ্রচারে কান দেয়ার দরকার নেই।
জয় বলেন, আমরা যদি সত্ থাকি, তবে চিন্তার কিছু নেই। কেউ সঠিক শিক্ষা নিলে তার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি করার দরকার হয় না।
ছাত্র লীগ নেতা-কর্মীসহ সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের ভালোভাবে পড়ালেখা করার পরামর্শ দিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় আরো বলেন, শিক্ষা থাকলে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না, কোনো দিন অভাব হবে না, কারো কাছে হাত পাততে হবে না। শিক্ষা থাকলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে, চাঁদাবাজি করার কোনো প্রয়োজন হবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সারা জীবন আমার মা আমাকে বলতেন— পড়ালেখা করো, নিজের পাঁয়ে দাঁড়াও। শিক্ষা থাকলে তোমাকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। শিক্ষা থাকলে তোমার কোনো দিন অভাব হবে না, কারো কাছে হাত পাততে হবে না। ইনশাল্লাহ আমার কোনো দিন হাত পাততে হয়নি। আমি শিক্ষা গ্রহণ করেছি। নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি।
মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়ে জয় বলেন, আমাদের অর্থনীতি বাড়ছে, আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতির গতিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। আমাদের দেশে এখন মেধা ও পরিশ্রম নিয়ে আয়-উপার্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রচুর সুযোগ আছে। এখানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি করার কোনো প্রয়োজন নেই। যারা এ সব করে, এটা হচ্ছে তাদের চরিত্রের অভাব।
ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের উদাহরণ তুলে ধরে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ডিজিটাল সেন্টারের ১১ হাজার উদ্যোক্তা রয়েছেন। এই ছেলে-মেয়েরা তাদের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে একেকটি ইউনিয়নে বসে মাসে পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছে। শুধু মেধা দিয়েই তারা এটা করছে। এখন তাদের কারো কাছে হাত পাততে হচ্ছে না, চাঁদা তুলতে হচ্ছে না। তারা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষাঙ্গনকে নিরাপদ রাখতে ছাত্র লীগের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘ক্লিন সেইভ ক্যাম্পাস’-এর ওয়াদা শুনে আমি খুবই আনন্দিত। এটাই আজ ছাত্র লীগের কাছে দাবি করতে এসেছিলাম। জয় বলেন, আমি চাই বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিরাপদ থাকবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে।
ছাত্র লীগে মেধাবী ছেলে-মেয়েরা যোগ দেবে। উশৃঙ্খলা, নির্যাতন, সন্ত্রাস আমাদের আওয়ামী লীগ সহ্য করে না। ছাত্র লীগও সহ্য করবে না। জয় বলেন, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের বেশির ভাগই ছাত্র লীগ করে এসেছেন। আমার নানা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুও ছাত্র লীগ করেছেন। তারা মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে দেশের জন্য কাজ করে উঠে এসেছেন।
ছাত্র লীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। সভা পরিচালনা করেন ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। সহসভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজসহ ছাত্র লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের সূচনা বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠকে ছাত্র লীগের প্রতিটি ইউনিটিতে প্রচার সেল গঠন, কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র লীগকে আলাদা ডাটাবেজ তৈরি এবং রাজনৈতিক ইস্যুতে ছাত্র লীগ কেন্দ্রীয় সংসদকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি (সংবাদ সম্মেলন) হতে নির্দেশ দেন সজীব ওয়াজেদ জয়। এ ছাড়া, তিনি আগামী ১-৭ ডিসেম্বর সারা দেশে ‘ক্লিন অ্যান্ড সেইফ ক্যাম্পাস’ কর্মসূচি পরিচালনার নিদের্শ দেন। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াইফাই চালু করার ঘোষণা দেন তিনি।