‘জাওয়াহিরি উম্মাদনা তরুণদেরকে বিভ্রান্ত করছে’

 
 
‘আল কায়েদা নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি-উম্মাদনা তরুণদেরকে টার্গেট করছে। এদেশের তরুণরা কেউ কেউ জাওয়াহিরির উন্মাদনা এবং কথায় বিভ্রান্ত হয়, তাকে অনুসরণ করে’।
 বৃহস্পতিবার এক আসামির জামিন আবেদনের শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী এসব অভিমত ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জঙ্গি ষড়যন্ত্র ও তত্পরতার তথ্য উঠে এসেছে। এটি আশঙ্কার ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়।
সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় উগ্রপন্থী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্য সন্দেহে গ্রেফতার মো. আসিফ আদনানকে (২৬) সোমবার জামিন দেয় হাইকোর্ট।
এই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে সরকার। গতকাল প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে ওই স্থগিত আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা যখন তরুণ ছিলাম, তখন আদর্শ ছিলো কার্ল মার্কস, লেনিন, হো চো মিন, গোর্কী, আব্রাহাম লিংকন, মার্টিন লুথার কিং, ট্রয়োস্কি, মহাত্না গান্ধী, ফিদেল ক্যাস্ট্রো, চে গুয়েভারা। কিন্তু এখনকার তরুণরা কেউ কেউ জাওয়াহিরির উন্মাদনায় ও কথায় বিভ্রান্ত হয়। তাকে অনুসরণ করে। শিক্ষিত, বিত্তবান পরিবারের সন্তান, বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরাও বিভ্রান্ত হয়। তিনি বলেন, জাওয়াহিরি মেধাবী তরুণদের মগজ ধোলাই করছে। তরুণেরা এই ফাঁদে পা দিচ্ছে। জাওয়াহিরি উন্মাদ, তার উন্মাদনা তরুণদেরকে টার্গেট করেছে।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী আরো বলেন, আমাদের ব্রাদারকে (হাইকোর্টের সাবেক বিচারক) ছেলের বিষয়ে আদালতে আসতে হয়েছে। আমাদের সত্যি খারাপ লাগছে, রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
আদনানের পক্ষে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম শুনানি করেন। এসময় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার এবং আসিফের বাবা হাইকোর্টের সাবেক বিচারক আব্দুস সালাম মামুনও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
শুনানিতে ব্যারিস্টার রোকন বলেন, আসিফের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অপরাধ সংঘটনের কথা বলতে পারেনি পুলিশ। আবেদনকারীর বাবা একজন সাবেক বিচারক। তিনি উচ্চ শিক্ষিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তিনি পালিয়ে যাবেন না। আদালত চাইলে তাঁর পাসপোর্ট রেখে দিতে পারেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আসিফের মোবাইল বার্তায় পেয়েছে, বন্ধুকে নিয়ে সে আইএস সিরিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মোবাইলে এ ব্যাপারে নানা কথোপকথন ছিলো। তার বন্ধু পুলিশের অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে তার ফোন নষ্ট করে দেয়। জঙ্গিদের সঙ্গে সংযুক্ততা ও ইসলামিক স্টেটে তার যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়টি আসিফের মোবাইল থেকেই পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, পুলিশের ভাষ্যমতে, জাওয়াহিরির বক্তব্যে বেশ কিছু উদ্বুদ্ধ হয়েছিলো।
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে আসিফসহ দুজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেফতারের পর ডিবি দাবি করে, ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জন্য কর্মী সংগ্রহ করতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক বাংলাদেশি ছয় মাস ধরে এ দেশে অবস্থান করছেন। ওই দুজন গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দিয়েছেন।
এরপর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এক মামলায় ১০ নভেম্বর তাঁর অন্তর্বতীকালীন জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নিজামুল হক ও বিচারপতি এস এইচ মো. নূরুল হুদা জায়গীরদারের ডিভিশণ বেঞ্চ পুলিশ প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত আসিফের জামিন মঞ্জুর করেন।