ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিরা সিরিয়ায় ব্যাপক মাত্রায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা-বিরোধী অপরাধ করেছে বলে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, জঙ্গিগোষ্ঠীটি নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম’ করছে। খবর আল-জাজিরা ও বিবিসির।
আইএস-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ তিন শতাধিক প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, আইএস বেসামরিক লোকের বিরুদ্ধে চরম সহিংসতা চালাচ্ছে। তারা নির্বিচারে হামলা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। সেখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের জোরপূর্বক বিয়ে ও গর্ভধারণে বাধ্য কিংবা তাদের আইএসে যোগ দিতে বাধ্য করছে।
‘রুল অব টেরর:লিভিং আন্ডার আইএস ইন সিরিয়া’ নামক ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আইএস যোদ্ধারা প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদের ঘটনা ঘটাচ্ছে এবং একের পর এক লাশ জনসম্মুখে প্রদর্শন করছে। জঙ্গিগোষ্ঠীটি নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।
প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে— ইসলামিক স্টেট যোদ্ধারা স্থানীয় লোকদের কাছে খাদ্য, ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে দিচ্ছে না। এত কিছুর পরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আইএস যেহেতু ওই অঞ্চলে একটি শক্তিশালী হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে, সেহেতু সিরিয়ায় দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান করা না গেলে, সেখানে যে শূন্যতা তৈরি হবে তা পূরণ করতে পারে আইএস।
জাতিসংঘে সিরিয়া বিষয়ক একটি কমিশনের মানবাধিকার তদন্তকারীরা এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্ত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল আন্তর্জাতিক কমিশনটি কমিটি গঠন করে। এ বছর জুন মাসে চরমপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পর এই প্রথম জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।
উল্লেখ্য, ইসলামিক স্টেট ইতোমধ্যে ইরাক ও সিরিয়ার বেশ কিছু এলাকার দখল করে খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে।