ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত বন্ধ্যাকরণ শিবিরে সম্প্রতি অস্ত্রোপচারের সময় এক ডজনের বেশি নারীর মৃত্যু হয়। গতকাল শনিবার এই রাজ্যের দুইজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্ধ্যাকরণে ব্যবহূত ট্যাবলেটে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহূত বিষের রাসায়নিক পাওয়া গেছে। খবর রয়টার্সের।
বিলাসপুর জেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ পরদেশি জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় এন্টিবায়োটিক সিপ্রোসিন ট্যাবলেটে জিঙ্ক ফসফাইড পাওয়া গেছে। এই ট্যাবলেটগুলো গত এক সপ্তাহ আগে ওই গণবন্ধ্যাকরণ শিবিরে বিতরণ করা হয়েছিল। শিবিরে বন্ধ্যাকরণ করতে আসা কমপক্ষে ১৫ জন মহিলা মৃত্যুবরণ করেছিলেন বলে তিনি জানান। সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, স্থানীয় মাহাবার ফার্মাসিউটিক্যালসে জিঙ্ক ফসফাইড পাওয়া গেছে এমন খবর পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ট্যাবলেটগুলো পরীক্ষার করে। প্রাথমিক পরীক্ষায় এমন প্রমাণ পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ট্যাবলেটগুলোর নমুনা দিল্লি ও কলকাতায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং অমর আগারওয়াল এবং সিদ্ধার্থ। তিনি বলেন, অসুস্থদের লক্ষণেও জিঙ্ক ফসফাইড বিষক্রিয়ার নমুনা দেখা গেছে।
মাহাবার এর কর্যক্রম রায়পুর থেকে পরিচালিত হয়। ২০১২ সালে নিম্নমানের ঔষধ রাখার জন্য ৯০ দিন এর উত্পাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কিন্তু এর লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি। আগারওয়াল বলেন, কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ঔষধ থাকা সত্ত্বেও কেন স্থানীয়ভাবে ঔষধ ক্রয় করা হলো সেই বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের জন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থও বরাদ্দ ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, অনৈতিক কিছু আছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার গ্রাম থেকে অসুস্থ আরো বেশ কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের অনেকে মাহাবার এর ওষুধ ব্যবহার করেছেন এবং বমি, অস্থিরতা প্রচুর ঘাম হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন। মাহাবারের তৈরি দুই লাখ সিপ্রোসিন-৫০০ ট্যাবলেট ও অন্যান্য ৪ লাখ ট্যাবলেট জব্ধ করা হয়েছে বলে ছত্তিশগড় রাজ্য সরকার জানিয়েছে। পুলিশ ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রামেশ মাহাবার এবং তার ছেলেকে গ্রেফতার করেছে।