সাক্ষ্য দিতে ভারতে রওনা হলেন ফেলানীর বাবা

কুড়িগ্রাম সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানী হত্যা মামলায় পুণরায় সাক্ষ্য দিতে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ফেলানীর বাবাসহ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। রবিবার সকাল ১১টায় কুড়িগ্রামস্থ ৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর থেকে লালমনিরহাটের বুড়িমারী চেকপোস্ট হয়ে প্রতিনিধি দলটি কুচবিহারের সোনারী এলাকার বিএসএফের সেক্টর সদর দপ্তরের উদ্দেশে রওনা দেয়। তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন এবং ৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মেজর এটিএম হেমায়েতুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতের কুচবিহারের সোনারী এলাকার বিএসএফের সেক্টর সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স আদালতে আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টায় সাক্ষ্য দেবেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম। বিএসএফ’র এই বিশেষ আদালতের কার্যক্রম প্রায় দেড় মাস মুলতবি থাকার পর আগামীকাল সোমবার থেকে পুনরায় শুরু হচ্ছে ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচার।
ভারতে যাবার প্রাক্কালে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসএফ’র আদালতে ন্যায় বিচার পাবার আশায় পুনরায় সাক্ষ্য দিতে ভারতে যাচ্ছি। আশা করছি কাঁটাতাঁরের বেড়ায় বিএসএফ কর্তৃক নির্মমভাবে আমার মেয়ে ফেলানী হত্যার সঠিক বিচার পাবো।’
কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন জানান, অমিয় ঘোষের সাজা হওয়া উচিত। মামলার বাদী বিএসএফ এবং ভারতের সাথে বাংলাদেশের সৌহার্দপুর্ণ সম্পর্কের জন্য এই সাজা হওয়া জরুরি।
কুড়িগ্রামস্থ ৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মেজর এটিএম হেমায়েতুল ইসলাম জানান, আগামীকাল সোমবার বিএসএফ’র জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স আদালতে ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচার শুরু হচ্ছে। গত শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে বিএসএফের ১৮১ ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্ট ভিপি বাদলা চিঠি মারফত বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই আদালতে সোমবার ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, মামলাটির পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত হওয়ার এক বছর পর গত ২২ সেপ্টেম্বর পুনর্বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। কিন্তু পুনর্বিচার কার্যক্রমের পঞ্চম দিনে (২৬ সেপ্টেম্বর) আকস্মিকভাবে আদালতের কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ওইদিন সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম, পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন ও ৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তৎকালীণ কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আখন্দ কুচবিহারের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর মাঝপথ থেকে ফিরে এসেছিলেন।
বিগত ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরার সময় ভারতের চৌধুরীহাট বিএসএফ ক্যাম্পের কনস্টেবল অমিয় ঘোষ কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে।