নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে যারা এখনও কথা বলছে তারা অর্বাচীন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে যারা এখনও কথা বলছেন তারা ‘অর্বাচীন’। গণতন্ত্র সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। ওই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে যারা নানা কথা বলছেন সেটির জবাব বিশ্ববাসীই দিয়ে দিয়েছে। কমনওয়েলথ্ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন (সিপিএ) এবং ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) শীর্ষ পদে বাংলাদেশকে ভোট দিয়ে জয়ী করার মাধ্যমে তারা এই জবাব দিয়েছে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সিপিএ চেয়ারপারসন এবং সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী আইপিইউ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় গতকাল রবিবার সংসদে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। এর আগে ধন্যবাদ প্রস্তাবটির ওপর দীর্ঘ সোয়া চার ঘণ্টা আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ধন্যবাদ প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ধন্যবাদ জানানোর কারণে স্পিকার নিজেও সদস্যদের কৃতজ্ঞতা জানান।
‘বেশি অত্যাচার হলে ঢাল-তলোয়ার নিয়ে রাস্তায় নামুন’- সম্প্রকি কিশোরগঞ্জে ২০ দলের এক জনসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাল-তলোয়ার আর যা নিয়েই নামুন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে, এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।’
শেখ হাসিনা বলেন, পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অনেক চক্রান্ত হয়েছে। এই চক্রান্ত শুধু দেশেই হয়নি, এর সঙ্গে অনেকেই জড়িত ছিল। নির্বাচন ঠেকাতে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল। জনগণের সমর্থন ছিল বলে আমরা সেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সফল হয়েছি। তিনি বলেন, ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উদযাপন করবো। তখন বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিপিএ ও আইপিইউ’র শীর্ষ পদে বাংলাদেশ থাকায় আমরা এখন গণতন্ত্রের বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য বিরাট সম্মানের। সারাবিশ্বের গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন আমাদের ওপর পড়েছে। আমরা যেন সেটি করতে পারি, সেজন্য আমি দেশবাসীর সমর্থন ও দোয়া চাই। জনগণের ওপর আমার সেই আস্থা আছে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সিপিএ ও আইপিইউ সারবিশ্বে গণতন্ত্রের ধারক-বাহক। একইসঙ্গে এই দুটি ফোরামের সর্বোচ্চ পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হওয়া বিরল ঘটনা।