বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-২০ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন বিশ্ব নেতারা। এছাড়া নেতৃবৃন্দ বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতেও একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গিকার করেছেন। গতকাল রবিবার সম্মেলনের শেষ দিনে এই ঐকমত্য সৃষ্টি হয়। আগামী সম্মেলন চীনে অনুষ্ঠিত হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খবর রয়টার্সের।
অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে উপস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সবচেয়ে কঠিন আলোচনাটি হয় জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর। এটা একটা যুদ্ধাবস্থার মতোই ছিল। এই বিষয়ের ওপর আলোচনার গতি ছিল খুবই ধীর। গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর দিক মোকাবেলায় গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি সকল জাতিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এগিয়ে আসার আহবান জানান। জাপান গতকাল ফান্ডে দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়ার অঙ্গিকার করে। চূড়ান্ত ইশতেহারে আগামী বছর ফ্রান্সের প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলনের আগে প্রটোকল বাস্তবায়নে কঠোর ও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
জি-২০ এর এবারের সম্মেলনে ইউক্রেন ইস্যুটি গুরুত্ব পায়। পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনে হস্তক্ষেপ করার দায়ে রুশ প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেন। ফলে সম্মেলন শেষ হওয়ার আগেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্মেলন ছেড়ে চলে যান। সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ইউক্রেনে আক্রমণের জন্য রাশিয়াকে বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। আর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ইউরোপে ঠান্ডা সংঘাতের ব্যাপারে সতর্ক করে দেন। পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর নেতারা রাশিয়ার প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে যে, ইউক্রেন থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা না হলে অবরোধ আরো বাড়ানো হবে।
পশ্চিমাদের অভিযোগ, রাশিয়ার সরবরাহকৃত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়পন্থী বিদ্রোহীরা গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার বিমানটি ভূপাতিত করে। মস্কো ক্ষুব্ধভাবে এ অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে। মালয়েশিয়ার ওই বিমানে ২৯৮ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ও বাসিন্দা ছিলেন ৩৮ জন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ বলেন, মালয়েশিয়ার বিমান ভূপাতিত এবং ইউক্রেনের প্রতি রাশিয়ার আচরণের কারণে জি-২০ ভুক্ত দেশগুলোর বেশ কয়েকজন নেতা পুতিনকে খুবই চাপে রাখেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলের উপকূলে রাশিয়ার চারটি যুদ্ধ জাহাজের উপস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে ক্যানবেরা।
এশিয়ার বৃহত্তম শক্তি চীন ২০১৬ সালে জি ২০ সম্মেলন আয়োজন করবে। ব্রিসবেনে দু’দিনের জি-২০ সম্মেলনের পর গতকাল অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোট এ কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে তুরস্ক জি-২০ গ্রুপের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছে। আগামী বছর দেশটির আনতোলিয়ায় জি-২০ গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে ২০১৬ সালের সম্মেলন হবে চীনে।