অস্কার জিতলো স্নেহার স্যানিটারি প্যাড তৈরির গল্প

১৫ বছর বয়সী বালিকা স্নেহা। এসময় শুরু হয় তার ঋতুস্রাব। মাসিকের রক্ত দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন হয়তো ভয়ানক অসুখ হয়েছে। কান্নাকাটিও করেছিলেন। কিন্তু মাকে বলার সাহস পাচ্ছিলেন না। শেষে তার খালা বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

সেই স্নেহা এখন ২২ বছরের তরুণী। কাজ করছেন গ্রামের ছোট্ট একটি কারখানায়। যেখানে স্যানিটারি প্যাড তৈরি করা হয়। তার এই গল্প নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র এবারের অস্কার পুরস্কার পেয়েছে। তথ্যচিত্রটির নাম ‘পিরিয়ড, ইন্ড অফ সেনটেন্স’। হলিউডের কিছু শিক্ষার্থীর প্রযোজনায় একজন ইরানি-মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা রায়কা জেতাবচি তথ্যচিত্রটি নির্মাণ  করেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্নেহার গ্রাম ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে ১১৫ কিলোমিটার দূরে হাপুর জেলাতে।  গ্রামটির নাম কাথিখেরা। এই তথ্যচিত্রে চিত্রায়িত হয়েছে গ্রামটির শস্য খেত, স্কুলের শ্রেণিকক্ষ।

তথ্যচিত্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। ছবি: দ্যা লিলি

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বাকি অংশের মতো এই গ্রামেও নারীদের মাসিক একটি নিষিদ্ধ ব্যাপার। মাসিকের সময় এখানে নারীরা বিবেচিত হন অশুচি হিসেবে। ধর্মীয় স্থানে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে দেওয়া হয় না তাদের।

আরো পড়ুন: মিন্টো রোডে ভাদাইমার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ পুলিশের

স্নেহা বলেন, ২০১৭ সালে সুমন নামে এক প্রতিবেশী, স্নেহাকে ওই কারখানায় কাজের কথা বলেন। এবিষয়ে অনুমতি নেওয়ার জন্যে যান মায়ের কাছে। তখন তার মা তার বাবার কাছে অনুমতি চাইতে বলেন। কিন্তু স্নেহা স্যানিটারি প্যাড তৈরি করবেন এ কথাটি তার বাবাকে বলতে সংকোচ বোধ করছিলেন। তাই বাবাকে জানালেন যে, তিনি শিশুদের জন্যে ডায়াপার তৈরির একটি কারখানায় কাজ করবেন।

এই নারী আরো জানান, এখন ওই কারখানায় ১৮ থেকে ৩১ বছর বয়সী সাতজন নারী কাজ করেন। মাসে বেতন পান আড়াই হাজার রুপি। এই প্যাডগুলো ফ্লাই  নামে বাজারজাত করা হয়।

তিনি জানান, প্রথমদিকে এই কারখানায় কাজ করতে আসা নারীরা গ্রামবাসীর বাধার সম্মুখীন হয়েছে। কারখানায় কী হয় সেটা নিয়ে অনেকেরই মনে নানা সন্দেহ ছিল। 

সুষমা, স্নেহা বা তাদের সহকর্মীদের জন্যে অস্কার মনোনয়নের বিষয়টি খুব বড় একটি প্রাপ্তি বলে মনে করছেন প্রতিবেশীরা। তারা বলছেন এটি গ্রামের জন্যে অনেক বড় সম্মানের।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচ