মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ

দুদকের ডিজিসহ ৯ জনকে শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদ

 
 
 
মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যাবতীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানকারী দল। বর্তমানে কমিশনের টিম তা পরীক্ষা করছে। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অভিযুক্তদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব পর্যালোচনা করে খুব শিগগিরই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে দুদকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
যাদের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তাদের মধ্যে কর্মকর্তা পর্যায়ে রয়েছেন, দুদকের মহাপরিচালক (ডিজি) কামরুল হাসান মোল্লা, পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া, আরেক পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, উপ-পরিচালক ঢালী আবুদস সামাদ, আরেক উপ-পরিচালক এস এম গোলাম মাওলা সিদ্দিকী ও সাবেক উপ-পরিচালক রঞ্জন কুমার মজুমদার। এছাড়া অভিযুক্ত কর্মচারীরা হলেন-সহকারী পরিদর্শক আবদুস সোবহান, কোর্ট সহকারী (এএসআই) নুরুল ইসলাম ও ইসহাক ফকির।
অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্র জানায়, ওই ৯ জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণপূর্বক চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগের অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে আইন বিভাগের মহাপরিচালক কামরুল হোসেন মোল্লা ও পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া অসত্য তথ্য প্রদান করে মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ করেছেন বলে প্রাথমিক প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। এছাড়া গোলাম ইয়াহিয়া চাকরির প্রচলিত বয়সসীমা শেষে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জমা দেয়ার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের দেওয়া সুবিধা অনুযায়ী এক বছর অতিরিক্ত সময় চাকরি করেছেন।

দুদকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির এ অভিযোগ গত ২১ অক্টোবর কমিশনের মাসিক সভায় উত্থাপিত হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ২২ অক্টোবর দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধানকারী টিম গঠন করে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধান টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক জুলফিকার আলী। টিমের আরেক সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম।