বিদেশে থাকা ৬০ শীর্ষ অপরাধীর বেশিরভাগই অজ্ঞাত স্থানে

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লুকিয়ে থাকা বাংলাদেশের ৬০ শীর্ষ অপরাধীর সিংহভাগের অবস্থান দীর্ঘদিন পরেও জানা সম্ভব হয়নি। যাদের অবস্থান জানা গেছে তাদের ব্যাপারে দফায় দফায় বৈঠক করে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে কোন সাড়া মেলেনি। দু’-চারজনের অবস্থান মিললেও ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আটকে গেছে আইনি জটিলতায় এবং নানা দুর্বলতার কারণে। তবে ১৭ বছরের মধ্যে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে আনা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি মাকসুদ মুরাদকে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটের রেড নোটিসে ৬০ বাংলাদেশির নাম রয়েছে। তাদের অনেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে জীবন-যাপন করছেন ।

ইন্টারপোলের এ তালিকায় অনেকেরই ছবি নেই। কারও কারও ছবি ৩০/৩৫ বছরের পুরনো। ফলে ঐ ছবি আর নাম দিয়ে তাদের গ্রেফতার করা  প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সদর দফতর এনসিবি (ইন্টারপোল) ডেস্ক সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক পুলিশি সংস্থা ইন্টারপোলে ৬০ ভয়ংকর অপরাধীর মধ্যে অনেকের নাম রয়েছে ১৯৯৭ সাল থেকে। তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারিভাবে রয়েছে শক্তিশালী টাস্কফোর্স। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তাদের অধিকাংশেরই অবস্থান এতদিনে জানা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এদের অনেকে যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা, পাকিস্তান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন।
এ ষাট অপরাধীর মধ্যে রয়েছেন হত্যা মামলার আসামি ঢাকার ওমর ফারুক ওরফে কচি, মিন্টু, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউসুফ, ঢাকার আলম তৌফিক, নাসির উদ্দিন রতন, যশোরের আমিনুর রহমান, ঢাকার আতাউর রহমান, সিলেটের বরুনউদ্দিন বরুন, যশোরের আজিজ মোস্তাক, ফেনীর স্বপন মালাকার, নোয়াখালীর শাহাদাত হোসেন, খুলনার শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, ঢাকার চান মিয়া, চাঁদপুরের খোরশেদ আলম, খুলনার মনোটেস বসাক, প্রশান্ত সরকার, সুলতান সাজিদ, ফরিদপুরের ইকরাম ওরফে নাইম খান, নোয়াখালীর আহমেদ কবির, ঝালকাঠির শিশু ধর্ষণকারী মোহাম্ম শরিফুল হোসেন, বগুড়ার রফিকুল ইসলাম, নরসিংদীর মোহাম্মদ মোবারক হোসেন, সিলেট বিয়ানীবাজারের   মোহাম্মদ কবির হোসেন কবির, চট্টগ্রামের আজাদ হোসেন খান, ঢাকার সালাউদ্দিন মিন্টু, ফরিদপুরের মকবুল হোসেন, নেত্রকোনার আব্দুল জব্বার, ঢাকার নবী হোসেন, রাজধানীর মিরপুরের প্রকাশ কুমার বিশ্বাস, টাঙ্গাইল মির্জাপুরের খন্দকার তানভিরুল ইসলাম জয়, ঢাকার জাফর আহমেদ, চট্টগ্রামের অশোক কুমার দাস, ঝালকাঠির মোল্লা মাসুদ, ময়মনসিংয়ের রফিকুল ইসলাম, টঙ্গীর আহমেদ মঞ্জু, ঢাকার শামীম আহমেদ, ফরিদপুরের আবুল কালাম আজাদ, ঢাকার  শরিফুল হক ডালিম, ফেনীর পীর আহমেদ আকাশ, গাজীপুরের নুরুল ইসলাম, খুলনার আহমেদ শফিকুল ইসলাম, কুমিল্লার খন্দকার আব্দুর রশিদ, হারিস আহমেদ, মুন্সীগঞ্জের শহিদুল ইসলাম, কুমিল্লার এম রাশেদ চৌধুরী, কিসমত খন্দকার, আমিনুর রসুল সাগর ওরফে টোকাই সাগর, ঢাকার খিলগাঁওয়ের জিসান, বগুড়ার কালা জাহাঙ্গীর, আলহাজ্ব মাওলানা তাজউদ্দিন, সুব্রত বাইন, নূর প্রমুখ।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, এদের মধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি তাজউদ্দিন রয়েছেন আফ্রিকায়। কলকাতায় কারাগারে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন। শীর্ষ সন্ত্রাসী টোকাই সাগর আমেরিকায়, জিসান রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। অপরদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পলাতক ৬ আসামির মধ্যে এইচবি নূর চৌধুরী কানাডায় এবং এএম রাশেদ চৌধুরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ঐ দুই দেশের সক্রিয় কূটনৈতিক সাড়া মেলেনি। আর অন্যদের অবস্থান চিহ্নিত করা যায়নি। একইভাবে চিহ্নিত করা যায়নি যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদের অবস্থান।
পুলিশ সদর দফতরে ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা এআইজি (এনসিবি) মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, আমার কাজ অপরাধী সম্পর্কে ইন্টারপোলকে অবহিত করা এবং রেড নোটিস জারির বিষয়টি সমন্বয় করা। আর দেশে ফেরত আনার বিষয়টি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের আন্তরিকতার উপর।
পুলিশ সদর দফতরের অপর এআইজি (মিডিয়া) জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ইন্টারপোলে রেড নোটিস জারিকৃত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে গ্রেফতারের সফলতা থাকা না থাকার বিষয়টি ইন্টারপোলের। যখনই তালিকাভুক্ত কোনো সন্ত্রাসীর বিদেশে অবস্থান জানা যায়, তখনই তা বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলকে জানানো হয়।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি নাজমুল মাকসুদ মুরাদকে ইন্টারপোলের সহায়তায় ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। মুরাদ ১৯৮৯ সালের ১১ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ মামলার আসামি ছিল।