নগর সংস্কৃতি

আমেরিকান হিপহপ গানের সুরে শান্তির আহ্বান

হিপহপ গানের সুরে মাতলো ঢাকা। বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে হিপহপ সংগীতকে ছড়িয়ে দিতে ঢাকায় আমেরিকান শিল্পীদের পরিবেশনা মন মাতালো ঢাকার তরুণদের। হিপহপ সঙ্গীতধারা শান্তির আহ্বান জানায়। এই সঙ্গীত মানুষের মুক্তিতে বিশ্বাসী। হিপহপ হচ্ছে মানুষের মুক্তির উচ্ছ্বাস।
আমেরিকার জনপ্রিয় এ সঙ্গীতধারা দু’দেশের মানুষের মাঝে সুরের বন্ধনের সৃষ্টি করেছিল। আমেরিকায় এ ধারাকে শুধুমাত্র সঙ্গীতের গণ্ডিতে আবদ্ধ না রেখে বিবেচনা করা হয় ওই ভূখণ্ডের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে।
গতকাল সোমবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আমেরিকান দূতাবাসের আমেরিকান সেন্টার আয়োজিত আমেরিকান চার শিল্পী এ সঙ্গীত আয়োজনে অংশ নেন। শিল্পীরা হলেন আশেরু বেন, আন্দ্রে ডিজে এ মাইনর, জসেলিন এলিস ও আমিরাহ স্যাকেট। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন সাধনার শিল্পীরাও। মুরুতেই উপমহাদেশীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ধারায় সাধনার শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। সেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রেশ থেকেই হিপহপের জগতে প্রবেশ করেন শিল্পীরা। এরপর নতুন ভুবনে প্রবেশ করেন আমেরিকান শিল্পীরা। এরপর দু’দেশের মিলিত উপস্থাপনায় আমেরিকান শিল্পীরা বাংলাদেশের তরুণদের নিয়ে হিপহপের ছন্দে বাংলাদেশের মানুষের আনন্দ-বেদনার কাব্য তুলে ধরলেন।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে মার্কিন দূতাবাসের আমেরিকান সেন্টারের পরিচালক অ্যান ব্যারোস ম্যাককনেল স্বাগত বক্তব্যে বলেন, হিপহপ হচ্ছে সঙ্গীতকে আশ্রয় করে জীবনের বর্ণনা। আজকের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও আমেরিকার জীবনধারার যৌথ উপস্থাপনা তুলে ধরা হবে। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাধনার সাধারণ সম্পাদক লুবনা মারিয়ম। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে দৃঢ় করতেই আমেরিকার শিল্পীরা পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সফরে আসছে। তারই অংশ হিসাবে এই দলটি এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনুষ্ঠান শুরুর আগে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা ক্যালভিন হেইজ বলেন, বাংলাদেশের মানুষের নিজেদের গল্প রয়েছে। হিপহপ হচ্ছে সেই বিশেষ ধারার সঙ্গীত যাকে অবলম্বন করে মানুষ তার নিজের কথা বলে। নিজের বঞ্চনার কথা বলে, অধিকারের কথা বলে। আর এই ধারা মানুষের নিজেকে প্রকাশের তীব্রতা থেকে উঠে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসাবে চারজন সদস্যের এই দলটি গত ৮ নভেম্বর ঢাকা এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেক্সট লেভেল কর্মসূচির অংশ হিসাবে যা সাংস্কৃতিক বিনিময়, সংঘাত সমাধানসহ নানা উদ্যোগকে উত্সাহিত করতে হিপহপ শিল্পীদের বিদেশে প্রেরণ করে থাকে।  দলটি বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নিয়ে তরুণদের মাঝে হিপহপ গানকে যেমন ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। তেমনি সঙ্গীত পরিবেশন করে তরুণদের মাঝে তার মাধুর্য তুলে ধরেছে। মূলত আফ্রিকা ও আমেরিকান সুরের ভুবন থেকে হিপহপ সঙ্গীতের সূচনা। গত শতকের সত্তরের দশকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গানের এই ধারাটির চর্চা শুরু হয়। এরপর আশির দশকে এ সঙ্গীতধারা অর্জন করে জনপ্রিয়তা। তাল বা বিটের প্রাধান্যযুক্ত গানের এ ধারার চারটি মূল উপাদান হচ্ছে র্যাপিং, ডিজেইং, সিন্থিসিস ও বিটবক্সিং।
সদ্যপ্রয়াত জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন ও শিক্ষাবিদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী’কে আলোচনা ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে স্মরণ করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। গতকাল সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ নাগরিক স্মরণ সভায় বক্তব্য প্রদান করেন সৈব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, মান্নান হীরা, গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর, বাংলাদেশ গ্রুফ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আক্তারুজ্জামান, সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর ভ্রাতা আব্দুল কাদের সিদ্দিকী ও ছেলে ডা. শাকিল আক্তার এবং মইনুল হোসেনের কন্যা নাহিদ জামিল। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে শোক সংগীত পরিবেশন করেন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী লাইসা আহমেদ লিসা।
বক্তারা বলেন, সৈয়দ মইনুল হোসেন ও শিক্ষাবিদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা এবং কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন কিন্তু দেশাত্মবোধের স্থান থেকে অভিন্ন দুই সত্তা। খ্যাতিমান এই দুই গুণী তাদের কাজের মধ্য দিয়ে যুগ যুগ ধরে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।