ঢাকায় সফররত ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনআইএ) কর্মকর্তাদের কাছে ৪১ জন শীর্ষ অপরাধীর তালিকা তুলে দিয়েছে র্যাব। গতকাল সন্ধ্যায় র্যাব সদর দফতরে ভারতীয় গোয়েন্দা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এই তালিকা হস্তান্তর করা হয়। র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান প্রতিনিধি দলের কাছে তালিকাটি হস্তান্তর করেন। এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় রয়েছে হত্যাসহ একাধিক মামলা। তারা দীর্ঘদিন ভারতের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে আছে বলে জানিয়েছে র্যাব। অপরদিকে এনআইএ’র পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে ভারতীয় ১১ বিচ্ছিন্নতাবাদীর তালিকা। এনআইয়ের কাছে হস্তান্তরকৃত ৪১ শীর্ষ অপরাধীর তালিকায় রয়েছে-মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত্ হোসেন। তার বিরুদ্ধে ৮টি হত্যাসহ ২০ মামলা রয়েছে। বর্তমানে ভারতের মুর্শিদবাদে অবস্থান করছেন তিনি। কুষ্টিয়ার মুকুল ওরফে আমিনুল মুকুল ওরফে বিজয়। তার বিরুদ্ধে ৪টি হত্যাসহ ১৬টি মামলা। বর্তমানে তিনি ভারতের কারাগারে রয়েছেন। একই এলাকার শাহিন ওরফে রুমী। ৪টি হত্যাসহ ৯টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পিরোজপুরের নরত্তোম সাহা ওরফে আশিক ওরফে রবিন ওরফে আশিস। হত্যাসহ ১৯টি মামলা রয়েছে তার নামে। জিসান ওরফে নয়াটোলার জিসান ওরফে মন্টু। ৮টি হত্যাসহ ৯ মামলা আছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন তিনি। বরিশালের শাহিন শিকদারের বিরুদ্ধে রয়েছে একটি হত্যাসহ ১৩ মামলা। খন্দকার তানভিরুল ইসলাম জয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যাসহ ৯টি মামলা। মোহাম্মদপুরের নবী হোসেন নবী। তার বিরুদ্ধে ৮ হত্যাসহ ২৫ মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি কলকাতার কারাগারে বন্দি। আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু। তার নামে তিনটি হত্যাসহ ৮টি মামলা রয়েছে। বর্তমানে ভারতের গোবিন্দপুরে বসবাস করছেন। কুষ্টিয়ার কালুর বিরুদ্ধে দুইটি হত্যাসহ ৮টি মামলা রয়েছে। আমিনুর রহমান লিটন ওরফে ফিঙ্গে লিটনের নামে আছে তিনটি হত্যাসহ ৬ মামলা। বর্তমানে ভারতের বনগাঁওয়ে অবস্থান করছেন তিনি। অমল কৃষ্ণ মন্ডলের নামে রয়েছে হত্যাসহ ৬ মামলা। মিরপুরের তৌফিকুল আলম খান ওরফে তৌফিক ওরফে পিয়াল খানের বিরুদ্ধে ৭টি হত্যাসহ ৮টি মামলা রয়েছে। মোহাম্মদপুরের মামুনুর রশীদ মামুনের বিরুদ্ধে ৪টি হত্যাসহ ১৭ মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করছেন। চট্টগ্রামের সুনীল কান্তি দে’র বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাসহ ৭টি মামলা রয়েছে। নওগাঁর গৌতম চন্দ্র শিলান ওরফে গৌতম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১৫টি হত্যা মামলা। মিরপুরের প্রকাশ বিশ্বাস। মগবাজারের মোল্লা মাসুদ, পুরান ঢাকার শামীম আহমেদ ওরফে আগা শামীম। নওগাঁর চপল। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যাসহ বহু মামলা। গুলশান এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মুকুল। তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাসহ অনেক মামলা। মিরপুরের বাবু ওরফে বাবু। দুইটি হত্যাসহ ৮টি মামলা। মোহাম্মদপুরের মিন্টু। ১০টি হত্যাসহ ২১ মামলা। একই এলাকার হারিস আহমেদের বিরুদ্ধে আছে তিনটি হত্যাসহ ১৮টি মামলা। রাজবাড়ীর হালিমের আছে ছয়টি হত্যাসহ ১৩ মামলা। রাজধানীর শাহজাহানপুরের জাফর আহমেদ মানিক। দুইটি হত্যাসহ ৭ মামলা। পল্লবীর কালা চাঁন ওরফে চাঁন। তার বিরুদ্ধে ৬ হত্যাসহ ১৬টি মামলা রয়েছে। মেহেরপুরের মিনহাজ উদ্দিন ওরফে দুখু। পাঁচটি হত্যাসহ ৮টি মামলা। একই এলাকার এনামুল হক এনা এবং সিদ্দিক। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা। চট্টগ্রামের মোহাম্মদ তৈয়ব ওরফে এইচএম আবু তৈয়ব। তার বিরুদ্ধে ১১টি হত্যাসহ ২৫ মামলা। একই এলাকার মোর্শেদ খান। তার বিরুদ্ধে ৬টি হত্যাসহ ২৯টি মামলা। চট্টগ্রামের নুরুল আলম ওরফে আলম ওরফে এতিম আলম। চারটি হত্যাসহ ১৬টি মামলা। একই এলাকার রাজীব দত্ত ওরফে রিংকু। নয়টি হত্যাসহ ২৬টি মামলা। চট্টগ্রামের সাজ্জাদ খান। তিনটি হত্যাসহ ৯টি মামলা। কুমিল্লার শাহিদুল ইসলাম ওরফে শুভ ওরফে সব্বা। হত্যাসহ ১৭টি মামলা। মিরপুরের বিকাশ বিশ্বাস ৯টি হত্যাসহ ২৬ মামলা। রাজধানীর ভাষানটেকের ইব্রাহিম খলিল। একটি হত্যাসহ ১০টি মামলা। রাজবাড়ীর সামাদ মোল্লা ওরফে সামাদ মেম্বার ওরফে আজিজ কমান্ডর। ৮টি হত্যাসহ ১০টি মামলা। ত্রিমতি সুব্রত বাইন ওরফে শুভ্র ওরফে ফতেহ আলী। হত্যাসহ ৯টি মামলা।