জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, পথবাসী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে গৃহহীন পথবাসী মানুষেরা যে যেখানে বসবাস করে সেটাকে তাদের বর্তমান ঠিকানা ধরে নাগরিক পরিচয় পত্র দিতে হবে।
বুধবার সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে সরকারের নীতিনির্ধারণী ও সেবাপ্রদানকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে এক দিকনির্দেশনামূলক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পথবাসী মানুষেরাও এদেশের নাগরিক, সকল নাগরিকের মতো এদেরও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
মিজানুর রহমান বলেন, পথবাসীদের মৌলিক অধিকারসহ ভোটার আইডি কার্ড ও জন্মনিবন্ধন করার অধিকার থাকলেও মানসিক দৈন্যের কারণে তাদের উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছেনা।
পথবাসী মানুষের উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগী বেসরকারী সংস্থা কনসার্ণ ওয়াল্ড ওয়াইড,ব্লাস্ট, ও কোয়ালিশন ফর দ্যা আরবান পুওর (কাপ) এর উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, মো. ইশরাফিল আলম এমপি, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব আবু জাফর সরকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিব এম এ সালাম। আইন কমিশনের কর্মকর্তা ফাতেমা জাহান স্বর্ণা।
মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, জাতীয় পরিচয়পত্র আইন এবং ভোটার আইডি আইন প্রণেতারা দরিদ্র ও জনবান্দব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানে আইনগুলোতে পথবাসীদের অধিকার সংরক্ষণে কোন জটিলতা না থাকলেও শুধুমাত্র দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পথবাসীরা তাদের সকল রাষ্ট্রীয় অধিকার ও সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি পথবাসীদের সকলপ্রকার অধিকার সংরক্ষণে সরকারী ও বেসরকারী উন্নয়নসংস্থাকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।
মতবিনিময় সভায় পথবাসী মানুষের নাগরিক অধিকারে প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে ব্লাস্ট এর অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন এক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।
ধারণাপত্রে,আইন ও বিধিমালায় বাঁধা না থাকলেও জন্মনিবন্ধন,ভোটার রেজিস্ট্রেশন এবং জাতীয় পরিচয় পত্র নিবন্ধন ফরম এ সুনির্দিষ্ট স্থায়ী ও অস্থায়ী(বাড়ির হোল্ডিং নম্বরসহ)ঠিকানা লিপিবদ্ধ বাধ্যতামূলক হওয়ায় নগর পথবাসী মানুষেরা তাদের জন্মনিবন্ধন ও ভোটার নিবন্ধন করাতে পারছে না। জন্মনিবন্ধন সনদ ছাড়া ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয় পত্র পাওয়া সম্ভব নয় এ কারণে পথবাসীরা তাদের নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় রাষ্ট্রের অন্যান্য সুযোগ ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় ।
ইশরাফিল আলম এম পি বলেন, নগরায়নের ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পথবাসী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আইনি জটিলতা না থাকলেও অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে পথবাসী মানুষ নাগরিক অধিকার ও সুবিধা আদায়ে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সংবিধানে সকল নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। সেবা ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি হচ্ছে।
ইশরাফিল আলম বলেন, পথবাসীরা জন্ম নিবন্ধন বা ভোটারক্ষত্রে সচেতন ও আগ্রহী হলে এ সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাসহ গণমাধ্যমের ভুমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক মিজানুর রহমানের পরিচালনায় এক উন্মুক্ত আলোচনায় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা জন্মনিবন্ধন ও ভোটার আইডি না থাকার কারণে ফুটপাতে বসবাসকারী পথবাসী মানুষের নানান নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে তারা চাকুরী,ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারছে না।
তারা বলেন,আইনের ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকা সত্বেও দৃষ্টিভঙ্গি ও আইনের যথাযথ চর্চার অভাবে পথবাসীরা নাগরিক সুযোগ ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।