সার্চ জায়ান্ট গুগলের ইমেজ সার্চ সেবার মাধ্যমে কোনো ছবির সমধর্মী ছবি খুঁজে বের করার সুবিধা ছিল আগে থেকেই। তবে এবারে কোনো ছবিতে ঠিক কী দেখানো হয়েছে,সেটাও বলে দিতে পারবে এই সার্চ ইঞ্জিন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সফটওয়্যারের ব্যবহারের ফলে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন ছবির কনটেন্ট বুঝে ক্যাপশনও দিয়ে দিতে পারবে।
ইতোমধ্যেই এই ক্ষমতার কিছু প্রমাণ দেখিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে গুগল। কোনো ছবিতে একজন মানুষ যেভাবে ক্যাপশন প্রদান করে থাকে,ঠিক তেমনই ক্যাপশন প্রদান করে দিয়েছে গুগলের এ সেবা,যার নাম দেওয়া হয়েছে নিউরাল ইমেজ ক্যাপশন (এনআইসি। এই সেবা সাধারণ মানুষের সাথে সাথে অন্ধ বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আশির্বাদ হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছে গুগল।
এই সেবার জন্য গুগল যে মেশিন-লার্নিং সফটওয়্যার তৈরি করেছে,তাতে দুইটি নিউরাল নেটওয়ার্কের ব্যবহার রয়েছে। এই দুইটি নিউরাল নেটওয়ার্কের একটি 'ইমেজ রিকগনিশন' বা ছবি শনাক্তকরণ এবং অন্যটি 'ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ প্রসেসিং' বা ভাষার প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে কাজ করে। নিউরাল নেটওয়ার্কই এই সেবার মূলে রয়েছে। এটি এমন এক ধরনের কম্পিউটেশনাল মডেল যেটি মানবমস্তিষ্কের কর্মকাণ্ডের আদলে পরিচালিত হয় এবং এটি সময়ের সাথে সাথে পরিপার্শ্ব থেকে শিখতে পারে।
গুগলের এই ছবি চিনতে পারার উপযোগী নিউরাল নেটওয়ার্কের উদ্ভাবনের সাথে জড়িয়ে রয়েছেন গুগরের চার গবেষক বিজ্ঞানী ওরিওল ভিনিয়ালস,আলেক্সান্ডার তোশেভ,স্যামি বেনজিও এবং ডুমিত্রু এরহান। এই সেবা সম্পর্কে এক বার্তায় তারা বলেন,'একটি ছবির বর্ণনায় হাজার হাজার শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ছবিটিকে বুঝার জন্য উপযুক্ত কয়েকটি শব্দও যথেষ্ট হতে পারে। আমাদের লক্ষ্য ছিল কোনো ছবিকে বর্ণনা করতে পারা এমন কয়েকটি শব্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ও সঠিকভাবে তুলে আনার উপযোগী সফটওয়্যার তৈরি করা।
এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে বিভিন্ন ছবির যেসব ক্যাপশন পাওয়া গেছে,সেগুলোর অনেকগুলোই নির্ভুল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুল করে থাকলেও গবেষকরা জানিয়েছেন,শিক্ষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সময়ের সাথে সাথে এর নির্ভুলতার মাত্রা বাড়তে থাকবে। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস