আমার বাবা জঙ্গি গোষ্ঠীর শিকার: শোকসভায় শফিউল পুত্র

নিহত অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলামের ছেলে সৌমিন শাহরিদ জেভিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত শোকসভা শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমিও বাবার মতাদর্শে বিশ্বাসী ও একই ভাবধারার লোক। আমি আসলেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
পিতাকে হত্যার জন্য আবারো উগ্রবাদীদের দায়ী করে জেভিন বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ সঠিক, মৌলবাদী-জঙ্গি গোষ্ঠীর শিকার হয়েছেন আমার বাবা। এ হত্যার বিচারে সরকার ও পুলিশের উপর আমার আস্থা আছে। মানুষ তো আশা নিয়েই বাঁচে। তবে আমার বাবার মতো আর কোন শিক্ষককে যেন খুন হতে না হয়।’ এসময় শফিউলের ছোটবোন ওয়াসিম রুমানা লিপি বলেন, একাত্তরের ঘাতকরা এখনো আমাদের চারপাশে আছে। আমরা কথা বলতে চাই, আমাদের কথা বলতে দেয়া হোক; কিন্তু কথা বললেই তো টার্গেট হয়ে যাব। বিচারের আন্দোলন যেন থেমে না যায়, সে বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
চোখের জলে শফিউলকে স্মরণ : অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে চোখের জলে স্মরণ করেছেন তার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। শফিউলের পরিবারের সদস্যরাও এই শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন। শোক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে কেঁদে ওঠেন জেভিন। বলেন, ‘আমি কখনো চাইনি কালো ব্যানারে আমার বাবার হাস্যোজ্জ্বল মুখ থাকুক।
জেভিন বলেন, এর আগে বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বাসায় কাফনের কাপড় পাঠনো হয়েছিল। বাবা মনে করতেন তাকে সবাই ভালোবাসে, তাকে কেউ কিছুই করবে না।’
অধ্যাপক শফিউলের মা সখিনা আক্তার সভাস্থলে এসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজান উদ্দিন। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা, বিভাগীয় অধ্যাপক আব্দুর রহমান সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্র অধ্যাপক শফিউলকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।
শফিউলের ছাত্রীর বন্ধু আটক : অধ্যাপক শফিউলের বাসা থেকে আটক ছাত্রীর বন্ধু ও বিভাগের সাবেক ছাত্র জাহাঙ্গীর আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।