রংপুরে চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা ইমরান হত্যা মামলার আসামিদের ১০ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে হরতাল, অবরোধ, ধর্মঘট, ঘেরাওসহ বৃহত্তর কর্মসূচির মাধ্যমে রংপুর অচল করে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আমরা রংপুরবাসীর ব্যানারে সন্ত্রাস বিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু এই ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, দাবি মানা না হলে প্রথমে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পরে গোটা জেলা শেষে রংপুর বিভাগে হরতাল-ধর্মঘটের ডাক দেয়া হবে। সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে প্রতিটি ওয়ার্ডে সন্ত্রাস বিরোধী কমিটি গঠন করা হবে।
এর আগে সকালে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। পরে সেখানে হত্যা মামলার আসামি রংপুর জেলা ও বিভাগীয় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এমএ মজিদ ও তার ভাগ্নে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পিকআপ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এসময় নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে গোটা নগরীজুড়েই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বর থেকে সিটি মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে ২০১১ সালের বহুল আলোচিত মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাজিদ পারভেজ যাদু হত্যাসহ ৭টি খুন এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও জমি দখল এবং হত্যার উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকজনের উপর হামলার অভিযোগ উল্লেখ করে এমএ মজিদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়।
সেখানে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন তালুকদার, মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন, যুবলীগ নেতা ওয়াসিমুল বারী সিমু, জাসদ ছাত্রলীগ নেতা তানবীরুজ্জামান তানভীর, ব্যবসায়ী নেতা আলতাফ হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রবিউল হোসেন সরকার বাবলু, সাতমাথা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান তপু প্রমুখ।