চকবাজারে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা

রাজধানীর চকবাজারে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বাসার অনতিদূরে একটি দোকানের পাশ থেকে মনি আক্তারের (১০) উদ্ধার করে স্বজনরা।
স্বজনরা তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সকরা জানায়, আগেই মনি আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পুলিশ দেলোয়ার হোসেন নামে এক যুবককে আটক করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চকবাজারের পশ্চিম ইসলামবাগের বেরিবাঁধ সংলগ্ন আলী ঘাটে মনি আক্তার তার বাবা-মায়ের সাথে থাকত। বাবা চাঁন মিয়া বুড়িগঙ্গায় খেয়াঘাটের মাঝি। মা রেনু বেগম একটি প্লাস্টিক ফ্যাক্টরীর শ্রমিক। পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মনি ছিল সবার ছোট। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে কোন স্কুলে ভর্তি করায়নি বাবা চাঁন মিয়া। আলী ঘাটে কাঠের দোতালা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ২ টি ঘর ভাড়া নিয়ে চাঁন মিয়া বসবাস করেন।
রেনু বেগম জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টায় মনি রাতের খাবার খেয়ে বাসা থেকে বের হয়। সাধারণত রাত ৮/৯ টা পর্যন্ত বাসার আশেপাশের আত্মীয়-স্বজনদের ঘরে ঘোরফেরা করে বাসায় ফিরে। মনি বাসা থেকে বের হয় পাশের গলিতে তার খালা নাজমার বাসায় যায়।
নাজমা বেগম জানান, রাত পৌনে ৯ টার দিকে মনি তার বাসায় আসলে তাকে একটি আপেল খেতে দেয়। ঐ আপেল নিয়ে মনি বাসা থেকে বের হয়ে যায়।
একজন প্রতিবেশী জানায়, রাত ৯ টার দিকে মনিকে বেরিবাঁধের ঢালে বসে থাকতে দেখে। রাত ১০ টার দিকে চাঁন মিয়ার বাড়ির মালিকের দুই ছেলে মনির ও টিটু খবর দেয় যে আলী ঘাটে সুজন মিয়ার দোকানের পাশে চট দিয়ে ঘেরা একটি স্থানে মনি পড়ে আছে। রেনু বেগম ছুটে গিয়ে সেখানে দেখতে সে পড়ে আছে।
মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক সহদেব রাজ বংশী জানান, রাত ১১ টার দিকে মনি আক্তারকে জরুরী বিভাগে আনা হলে চিকিত্সকরা পরীক্ষা করে দেখেন যে তার আগেই মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির গলায় কালো দাগ রয়েছে এবং যৌনাঙ্গ রক্তাক্ত। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত শেষে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
চকবাজার থানার ওসি আজিজুল ইসলাম জানান, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ দেলোয়ার হোসেন নামে এক যুবককে আটক করেছে।