তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু যুদ্ধাপরাধের বিচার অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিএনপিকে প্রধান শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) তাদের ছাতার নীচে যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয় দিয়েছে এবং আমেরিকা ও ইউরোপের কিছু বিপথগামী রাজনীতিক তাদের সাথে জোট বেধেছে ।
‘বিএনপি দাবি করে তারাও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় কিন্তু এ দলটি তাদের শাসনামলে কখনোই তা করেনি’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন,শুধু তাই নয় বিগত সময়ে বিএনপি চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে জোট করে তাদের মন্ত্রী বানিয়েছিল।
হাসানুল হক ইনু রবিবার রাজধানীর শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘মানবতা ও শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার’শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন,বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এ দেশে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন,১৯৭১ সালে এদেশে ১২০০০ হাজার যুদ্ধাপরাধী ছিল,যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত। বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেন, কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মোস্তাক-জিয়া বিচারের প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন।
হাসানুল হক ইনু বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ধূর্ততার অভিযোগ করেন, এবং বলেন,যখন যুদ্দাপরাধীদের বিচার শুরু হয় তখন থেকেই বিএনপি নেত্রী কেগম খালেদা জিয়া দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি যুদ্ধাপরাধী এবং জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কখনোই শক্ত অবস্থান গ্রহন করেনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কারো কোন প্রশ্ন তোলার অধিকার নেই উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত যে কারোরই আইনজীবী নিযুক্ত করার পাশাপাশি আত্মপক্ষ সমর্থনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা এই বিচার প্রক্রিয়া দেখতে উপস্থিত থাকতে পারবেন, কোনো বিদেশী নাগরিকও ইচ্ছা করলে এই বিচার প্রক্রিয়া দেখতে উপস্থিত থাকতে পারবেন, কাজেই এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই।
কিছু বুদ্ধিজীবীর সমালোচনা করে মন্ত্রী বিচার প্রক্রিয়ার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
মোজাফফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসির মামুন ও মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরের ট্রাস্টি ড. সরোয়ার আলী বক্তৃতা করেন।