বাংলাদেশের গণহত্যা নিয়ে আমেরিকান লেখক পেলেন কানাডিয়ান পুরস্কার। ‘ব্লাড টেলিগ্রামঃ নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড এ ফরগটেন জেনোসাইড’ গ্রন্থটি ২০১৪ সালের জন্য গ্যারি ব্যাস কানাডিয়ান পুরস্কার 'লাওনেল গেলবার প্রাইজ' অর্জন করলেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টরন্টোর সাংগ্রি-লা হোটেলে এক জমজমাট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পুরষ্কার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়। বইটিতে লেখক অসাধারণ নৈপুণ্যের সাথে মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা, মানবতা এবং নিক্সন, কিসিঞ্জারের ভূমিকা তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, এ পুরস্কারটি কানাডার প্রয়াত কূটনীতিক লাওনেল গেলবার (১৯০৭-১৯৮৯) স্মরণে ১৯৮৯ সালে প্রবর্তিত। পুরস্কারজয়ীর জন্য রয়েছে ১৫ হাজার ডলার। প্রতি বছর তা ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন ও টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঙ্ক স্কুল অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের সহযোগিতায় লাওনেল জেলবার ফাউন্ডেশন থেকে দেয়া হয়। নিউজার্সির প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও পররাষ্ট্রনীতির অধ্যাপক গ্যারি ব্যাস পুরস্কারটি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্বল কনফারেন্স হল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন। পুরস্কারের জুরিবোর্ডে ছিলেন- জুরি চেয়ারম্যান উইলিয়াম থরসেল (কানাডা), সদস্য ২০১৩ সালের লাওনেল জেলবার পুরস্কারজয়ী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড (টরন্টো, কানাডা), টিমোথি গার্টন অ্যাশ (অক্সফোর্ড, ইংল্যান্ড), ডেনিয়াল ডব্লিউ ড্রেজনার (ম্যাসাচুসেটস, ইউএসএ)এবং ম্যাটিয়াস স্পেকটর (ব্রাজিল)।
এ বছর সারা বিশ্ব থেকে ৭৫ জন প্রকাশক থেকে প্রাপ্ত ১৭৫টি নির্বাচিত বই অতিক্রম করে ‘ব্লাড টেলিগ্রামঃ নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড এ ফরগটেন জেনোসাইড’ এই পুরস্কার অর্জন করে।
উল্লেখ্য, একাত্তরে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্থার কেন্ট ব্লাড কর্তৃক ওয়াশিংটনে প্রেরিত ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’গুলো স্নায়ু যুদ্ধকালীন হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ কর্মপ্রণালীকে তুলে ধরে। বইটিতে লেখক দেখিয়েছেন- কীভাবে পাকিস্তানের সামরিকজান্তা ইয়াহিয়া খান ঐতিহাসিকভাবে অনুষ্ঠিত একটি মুক্ত নির্বাচনের ফলাফলকে ভূলুণ্ঠিত করেছেন। তাতে লাখো মানুষকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়। এক কোটি মানুষের প্রতিবেশী ভারতে উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে ছিল এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। নিক্সন ও কিসিঞ্জার সেই ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ উপেক্ষা করে পাকিস্তানের সামরিকজান্তাকেই সমর্থন জোগান। কেবল স্নায়ুযুদ্ধের রাজনৈতিক হিসাব মেলাতে ভারত ও তার নেত্রী ইন্দিরা গান্ধিকে ব্যক্তিগত অপছন্দ থেকে নিক্সন ও কিসিঞ্জার পাকিস্তান সরকারকে সমর্থনসহ একটি ভয়াবহ যুদ্ধের পাণে ভারতকে ঠেলে দেন। এছাড়াও নিজের দেশের প্রতিবাদী এই কূটনীতিককে নিস্তব্ধ করার পাশাপাশি গোপনে চীনের সৈন্য বাহিনী ভারত সীমান্তে মোতায়েনে উৎসাহ প্রদান এবং অবৈধভাবে পাকিস্তানকে অস্ত্র দেন। লেখক গ্যারি ব্যাস তার বইয়ে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সরকার কর্তৃক হোয়াইট হাউসের টেপ শুনে, ডি-ক্লাসিফাইড নথি-পত্র দেখে, হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে এবং ভারতীয় সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই নাটকীয় ও আলো-আঁধারি চিত্রটি পুরোপুরি চিত্রায়ণ করেছেন।