ডা. মিলন দিবস আজ

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ ডা. মিলন দিবস আজ। ১৯৯০ সালের এই দিনে সামরিক স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনের এক উত্তাল মুহূর্তে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সংগঠক ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের তত্কালীন যুগ্ম-মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। মিলনের আত্মদানের মধ্য দিয়ে সে সময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়। ডা. মিলন হত্যার এক সপ্তাহের মাথায় ছাত্র-গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। সেই থেকে প্রতিবছর শহীদ ডা. মিলন সংসদ ২৭ নভেম্বর শহীদ মিলন দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। তবে মিলন হত্যার ২৪ বছর পার হলেও হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে এখন পর্যন্ত বিচার করা যায়নি।

দিনটি স্মরণে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী ও বিবৃতি দিয়েছেন। শহীদ ডা. মিলন সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ডা. মিলন এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ডা. মিলনের ২৪তম শাহাদত বার্ষিকীতে আমি তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
বিএনপি চেয়ারপার্সন এক বিবৃতিতে বলেন, গণতন্ত্রের জন্য তাঁর এই সর্বোচ্চ ত্যাগ এদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। গণতন্ত্র গভীর খাদের কিনারে গিয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে আবারও গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে। গণতন্ত্র ধ্বংসকারী অপশক্তিগুলোর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র নস্যাত্ করে দিতে তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
কর্মসূচি: মিলন দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে শহীদ ডা. মিলন সংসদ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে শহীদ ডা. মিলনের সমাধি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবে। তারা বিকাল ৩টায় টিএসসির সড়ক দ্বীপে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) কালোব্যাজ ধারণ, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সকাল ৮টায় মিলনের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, বিশেষ মোনাজাত ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে। একই সময় জাসদের পক্ষ থেকেও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। এছাড়া সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে বেলা ২টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মেধা, পেশাগত সততা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক কর্মতত্পরতায় ডা. মিলন ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।  জাসদের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা ছাড়াও তিনি তত্কালীন বিএমএ’র নির্বাচিত যুগ্ম-মহাসচিব, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং ঢাকা কলেজের বায়োকেমিস্ট বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। পেশাজীবী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরও একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন ডা. মিলন ।

এদিকে ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, অচিরেই বাংলাদেশে সঠিক ইতিহাস লেখা হবে। সেখানে ধিকৃত ও জঘন্য স্বৈরাচার হিসেবে ইতিহাস বিকৃতকারীদের নাম লেখা থাকবে। ড্যাব সভাপতি ডা. একেএম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এমএ মাজেদ, ড্যাব মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।