ব্লাসফেমি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

পাকিস্তানে অভিনেত্রী বিনা মালিকের ২৬ বছর কারাদণ্ড

ধর্ম অবমাননা আইন ‘ব্লাসফেমি’ লঙ্ঘনের অভিযোগে পাকিস্তানের আলোচিত অভিনেত্রী বিনা মালিকসহ চারজনকে ২৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। বাকি তিনজন হলেন- বিনার স্বামী মালিক আসাদ, জং গ্রুপের টিভি চ্যানেল জিও টিভির মালিক মীর শাকিলুর রেহমান ও অনুষ্ঠান সঞ্চালক শায়েস্তা লোদি। গিলগিটের সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের বিচারক রাজা শাহবাজ গত মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন।-খবর ডন এর।

পাকিস্তানের জিও টিভির একটি অনুষ্ঠানে ইসলাম ধর্মকে অসম্মান করায় বিনাকে এই সাজা দেয়া হয়। গত মে মাসে প্রচারিত জিও টিভির ওই অনুষ্ঠানে স্বামী আসাদ বশীরের সঙ্গে নাচতে দেখা যায় তাকে। সে সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি ধর্মীয় গান বাজানো হয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন শায়েস্তা লোদি। এভাবে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করার অভিযোগে পাকিস্তানের আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের গিলগিট-বালিস্তান শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট হেমায়েতুল্লাহ খান গত ২৬ মে এই মামলা দায়ের করেন। তার অভিযোগ ছিল, জিও টিভির সকালের অনুষ্ঠান ‘জেগে ওঠো পাকিস্তান’-এ প্রচারিত একটি কাওয়ালিতে আহলে বাইয়াতের অবমাননা করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানের সেদিনের বিষয় ছিল অভিনেত্রী বিনা মালিকের বিয়ে, যিনি খোলামেলা পোশাকে গণমাধ্যমে এসে এবং নানা বিস্ফোরক মন্তব্যের কারণে আলোচিত ও বিতর্কিত হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে যৌথ তদন্ত দল গত ১ সেপ্টেম্বর আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। বিচার শেষে পাকিস্তানের ১৯৯৭ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিনা, আসাদ, শাকিল ও শায়েস্তা লোদিকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি চার আসামির প্রত্যেককে ১৩ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে। তারা আত্মসমর্পণ না করলে তাদের সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেয়া হয়েছে পুলিশকে। রায় ঘোষণা করে আসামিদের গ্রেফতার করে দণ্ড কার্যকরের জন্য ইসলামাবাদ, পাঞ্জাব, সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের পুলিশ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পাকিস্তানে গত কয়েক দশকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ব্যাপক উত্থান ঘটলেও ব্লাসফেমি আইন রয়েছে সেই ১৯৬০-এর দশক থেকে। ধর্মভিত্তিক দলগুলো ব্যক্তিগত স্বার্থে এ আইন ব্যবহার করছে বলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ রয়েছে।