হায়রে হানিমুন!

ব্রিটেনের এক নবদম্পতির মধুচন্দ্রিমা (হানিমুন) মধুরতার পরিবর্তে জীবনের তিক্ততম অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। গত সোমবার ওই দম্পতি হানিমুনের জন্য একটি ফ্লাইটে কিউবার উদ্দেশে রওয়ানা হন। স্বামী ল্যাঙ্কাশায়ারের বাসিন্দা মোহাম্মদ খলিয়া বিমানটি উড্ডয়ান করার কিছুক্ষন পর কাছে নিয়ে যাওয়া মদের বোতল করে তা পান করে স্ত্রীর সঙ্গে তুমুল ঝগড়া ও মাতলামি শুরু করেন। এক পর্যায়ে স্ত্রী বিরক্ত হয়ে দূরের একটি আসনে গিয়ে বসেন। খলিয়া উঠে গিয়ে সেই আসনে যাবার চেষ্টা করলে বিমানের এক কর্মী তাকে বাধা দেন। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ওই বিমান কর্মীকে হত্যার হুমকি দেন এবং এক পর্যায়ে তার ওপর চড়াও হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিমানের কর্মচারীরা খলিয়ার হাতে হাতকড়া পরিয়ে বিমানের পেছনের দিকে নিয়ে যান। তাকে নিয়ে যাবার সময় তিনি অন্য যাত্রীদের উদ্দেশে থুঁতু ছিটাতে থাকেন। উপায় না দেখে পাইলট বিমানটি ঘুরিয়ে বারমুডায় অবতরণ করেন। পুলিশের একটি দল খলিয়াকে নিয়ে চলে যায়। এরপর বিমানটি ৩১১ জন যাত্রী নিয়ে আবার উড়াল দেয়। বিমানে রয়ে যান খলিয়ার স্ত্রী রুয়ানা। স্বামীকে ছাড়াই তিনি হানিমুনে যেতে বাধ্য হন কিউবায়!

গতকাল খলিয়াকে বারমুডার রাজধানী হ্যামিলটনের একটি আদালতে তোলা হয়। তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, ‘আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না। আমার নববিবাহিতা স্ত্রীও আমাকে ক্ষমা করতে পারবে না আমি জানি।’ শুনানি শেষে বিচারক খলিয়াকে বিমানে মদ নিয়ে ওঠার অপরাধে ২ হাজার মার্কিন ডলার এবং বিমানকর্মীকে হত্যার হুমকি দেয়ার অপরাধে আরো ১ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে বারমুডার কারাগারে তাকে চার মাস সশ্রম জেল খাটতে হবে। -রয়টার্স।