বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকার পতনের আন্দোলনে সামনের কাতারে থাকার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘আসুন সবাই এক কাতারে আন্দোলন করি। আমি থাকবো সমানের কাতারে। দেখি কীভাবে পুলিশ গুলি করে। খুব শিগগিরই সরকারের পতন হবে ইনশাআল্লাহ। আওয়ামী লীগকে বর্জন করুন। নতুন পরির্বতনের হাওয়া লেগেছে। দেশে এখন পরির্বতন আসবে।’
শনিবার কুমিল্লার টাউন হল ময়দানে নির্দলীয় সরকারে অধীনে নিবার্চনের দাবিতে জেলা ২০ দল আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ সরকার খুনিদের সরকার। ডা. মিলনকে খুন করেছে এরশাদ। জয়নাল, জাফর, দিপালী সাহা, নুর হোসেন জীবন নিয়েছে এরশাদ। সেই খুনি এরশাদের সঙ্গে জোট বেধেছে হাসিনা। হাসিনা খুনিদের দ্বারা বেষ্ঠিত। এদের গদি না থাকরে জনগণ পিষে ফেলবে। তাই তারা গদি ছাড়তে চায় না। সাহস থাকলে গদি ছেড়ে দেখুন কি পরিণতি হয়।’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজেদের যদি এতই জনপ্রিয় মনে করেন তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিবার্চন দিয়ে প্রমাণ করুন। কয়টা ভোট পান। সেই সাহস নেই। সাহস থাকবে কোথায় থেকে। কেবল তো আছেন লুটপাটের ধান্দায়।’
খালেদা জিয়া বলেন, জাসদের একজন নেতা যিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেছেন আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক নয়। তারা গণতান্ত্রিক কোনো দলও নয়। রনাঙ্গের মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের সঙ্গে আছে, থাকবেন। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না, তারা গণতান্ত্রিক নয়। আওয়ামী লীগের কার্যকলাপে মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছে। সারাদেশে কোনো উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়নের নামে লুটপাট করে পকেট ভর্তি করছে তারা। অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। অর্থমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন অর্থনীতির অবস্থা অত্যান্ত নাজুক।’
তরুণ যুবকদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘হাসিনা বলেছিল তোমাদের ঘরে ঘরে চাকুরি দিবে। এখন এক মাসে ১৯ শতাংশ কর্মসংস্থান কমেছে। ৮২ভাগ বিনিয়োগ কমে গেছে। এক ব্যক্তির শাসন এবং শোষণ চলছে।’
খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারিকে ‘কুত্তা মার্কা’ নিবার্চন অভিহিত করে বলেন, ‘শফিউল আলম প্রধান সাহেব ছবি দেখিয়েছেন কুকুর শুয়ে আছে, ছাগল বসে আছে ভোট কেন্দ্রে। আমরা ডাক দিলাম ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। আওয়ামী লীগ বাদে সবাই ভোট বর্জন করেছে। আওয়ামী লীগও পিটুনির ভয়ে ভোট দিতে যায়নি। এই আজ্ঞাবহ পা চাঁটা নিবার্চন কমিশন ভোটের হিসেব মিলাতে পারেনি। তিনদিন পর বলেছে ৪০ ভাগ ভোট পড়েছে।’