কুমিল্লার জনসভায় দেয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য নিয়ে বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হেফাজতে ছিলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের কী বুঝবেন?
রবিবার বিকালে দশম জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কয়েকজন সংসদ সদস্য। গত শনিবার কুমিল্লায় একটি সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন প্রসঙ্গ এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া।
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাড়িয়ে সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তখন খালেদা জিয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হেফাজতে ছিলেন। সারাবিশ্ব জানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। এরপরেও যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি তখন বঙ্গবন্ধু কিভাবে মুক্তিযুদ্ধ হবে, কিভাবে এ যুদ্ধ পরিচালিত হবে এসব বিষয়ে ৭ মার্চ রেসকোর্সের ময়দানে দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আওয়ামী লীগ যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস না করতো তাহলে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হতো না।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যদি আপনারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাহলে আগামীতে যে নির্বাচন হবে, সেজন্য জনগণের কাছে যান, তারা যদি ভোট দেয় তাহলে আপনি বিজয়ী হবেন।
সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্য শুনে মনে হলো যুবদল ও ছাত্রদলের কোন ক্যাডারের বক্তব্য। তার খালেদা বক্তব্যে কোনো সঠিক তথ্য ছিলো না। তিনি বলেছেন আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের দল নয়।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত সরকারের একজন বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি এখন বলছেন আওয়মী লীগ মুক্তিযুদ্ধের দল নয়। কয়দিন পরে তিনি হয়তো বলবেন, জামায়াতে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের দল। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ৯ মাস পাকিস্তানি সেনাবাহিনীদের আতিথেয়তায় ছিলেন। তাই তিনি রাজাকার, আল-বদরদের মুক্তিযোদ্ধা মনে করতেই পারেন।
হাসান মাহমুদ বলেন, দেশে যদি উন্নয়ন না হয়ে থাকে তাহলে গত ৬ বছরে যে ফ্লাইওভার ও ব্রিজ হয়েছে সেগুলো দিয়ে আপনি যাবেন না। খালেদা জিয়া জনসভাগুলো করতে যান এই ব্রিজের উপর দিয়ে। সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন খসরুও খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করেন। আবার জালাও পোড়াও করে দেখেন বাংলার মানুষ এক হয়ে তা প্রতিহত করবে।