বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আপনারা যদি এতই জনপ্রিয় হন তাহলে একটা নির্বাচন দিন না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা নির্বাচন দিন। দেখা যাক আপনারা কতগুলো ভোট পান আর আমরা কতগুলো ভোট পাই। যদি আমরা ভোট না পাই তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনো রাজনীতির কথা চিন্তাও করব না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বারবার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার নিকৃষ্টতম স্বৈরাচারী সরকার।
সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের নিজ বাসভবনে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন তাদের কেউ কেউ আত্মসমর্পণ করে। ছিয়াশি সালে তারা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে স্বৈরাচার এরশাদের সঙ্গে নির্বাচনে গিয়ে তার আয়ু বাড়িয়ে দেয়।
সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য আওয়ামী লীগ এরশাদের কাছ থেকে ট্রাঙ্ক ভর্তি টাকা নিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এখন তারা আবার ৫ জানুয়ারির ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় বারের মতো গণতন্ত্রকে হত্যা করে মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
নির্বাচন-রাষ্ট্রব্যবস্থা-জনগণের ভবিষ্যৎ কোনো ফুটবল খেলা নয়।
‘জনগণ মেনে নিয়েছে, বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র এ নির্বাচনকে বৈধতা দিয়েছে’ সরকারের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, মিথ্যা বলে আর কতো জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন। জনগণ এ নির্বাচন মেনে নেয়নি। বিশ্ব সম্প্রদায় বলেছে, যেহেতু জনগণ এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি, তাই বিশ্বের কোনো দেশ এখন পর্যন্ত এ নির্বাচনকে বৈধতা দেয়নি।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন আপনাদের জামানত থাকবে না। কারোরই জামানত থাকবে না। দশটা আসনও পাবেন না। সেজন্য ছলে-বলে-কৌশলে র্যাব, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছেন।
আওয়ামী লীগ সারাদেশকে কারাগার এবং সবাইকে আসামি বানিয়ে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৈমুর রহমান, সুলতানুল ফেরদৌস নম্র, পয়গাম আলী, ওবায়দুল্লাহ মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।