বাংলাদেশের গার্মেন্টস বন্ধ হলে বস্ত্রের অভাবে পড়বে বিদেশিরা

ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দুটি জোট ‘অ্যাকর্ড অন ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ’ (অ্যাকর্ড) এবং ‘অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি’ (অ্যালায়েন্স)দের গুরুত্ব না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তিনি এ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, তারা (অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স) আমদানি বন্ধ করে দিলে কিংবা বাংলাদেশের গার্মেন্টস বন্ধ হলে তাদেরই বস্ত্রের অভাব হবে। ভারত ও চীনের তুলনায় বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যের কম মূল্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভিসা ছাড়া যাতে কোন বিদেশি বাংলাদেশে না থাকতে পারে এবং ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কেউ যাতে এদেশে কাজ করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাসহ (এনএসআই) সংশ্লিষ্টদের দিয়ে বিদেশি নাগরিকদের কার্যক্রম যাচাই বাছাই করারও নির্দেশ দেন তিনি।
সম্প্রতি অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স সংগঠনের নেতারা বাংলাদেশের ১১ হাজার কারখানা পরিদর্শন করেন। তারা এসব কারখানার ৮০ হাজারের মতো ত্রুটি চিহ্নিত করেন। যা ইউরোপ-আমেরিকার মিডিয়ায় গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কর্মকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের পাত্তা দেয়ার দরকার নেই। খুলনায় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালকে  ‘দুই আনার মন্ত্রী’ বলে মন্তব্য করেন। সৈয়দ আশরাফের এ বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকের অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় উঠে আসে। মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য তার বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও এ ধরনের কথা বলা উচিত হয়নি। তবে এতে কোন প্রভাব পড়বে না।
অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের প্রসঙ্গটি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন,  তাদের মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের তালিকা করতে হবে। প্রসঙ্গত, সমপ্রতি উত্তরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিদেশিকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অনানুষ্ঠানিক আলোচনার এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যদি বাংলাদেশ থেকে পোশাক না কিনতে চায় তাতে তাদেরই সমস্যা হবে।
নিবন্ধন ছাড়া কার্যক্রম চালাতে পারবে না এনজিও
নিবন্ধন ছাড়া কোনো বেসরকারি সংস্থা কার্যক্রম চালাতে পারবে না, বিদেশি অনুদান নেয়ার ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন না করার বিধান রেখে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) জন্য নতুন আইন ‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন-২০১৪’র খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, ১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালের দুটি অধ্যাদেশ দিয়ে এখন এনজিও কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সামরিক শাসনামলের অধ্যাদেশ দুটি একত্র করে আইনে পরিণত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এনজিও কার্যক্রম পরিচালনা করতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে নিবন্ধন নিতে হবে, নিবন্ধন না নিয়ে কার্যক্রম চালাতে পারবে না। এ আইন পাস হলে একটি এনজিও ১০ বছরের জন্য নিবন্ধন পাবে। তবে আইন অমান্য করলে যে কোনো সময় নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত করা যাবে। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা যাবে না জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এনজিওতে কোনো প্রকল্পে বিদেশি পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হলে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমতি সাপেক্ষে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নিয়ে হতে হবে। প্রতিটি এনজিওর গঠনতন্ত্র, সাধারণ ও পরিচালনা পর্ষদ থাকা বাধ্যতামূলক। বিদেশি অনুদান একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে (মাদার অ্যাকাউন্ট) থাকতে হবে।
বিচারপতিদের পেনশন বাড়ছে
উচ্চ আদালতের বিচারকদের পেনশন সুবিধার অংশ হিসাবে এককালীন অর্থের পরিমাণ বাড়াতে আইন সংশোধন করছে সরকার। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘দি সুপ্রিম কোর্ট জাজেস (লিভ, পেনশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অর্ডিনেন্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৪’র খসড়া অনুমোদন লাভ করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, অবসরের সময় একজন বিচারকের মাসিক মূল বেতন ৫৬ হাজার টাকা হলে পেনশন হিসাবে তিনি পান এর ৮০ শতাংশ বা ৪৪ হাজার ৮০০ টাকা। এই পেনশনের ৫০ শতাংশ বা ২২ হাজার ৪০০ টাকা তাকে আনুতোষিক হিসাবে এককালীন (বাধ্যতামূলক সমর্পণ) দিতে হয়। বাকি টাকা তিনি পান মাসিক পেনশন হিসাবে। এককালীন অর্থের ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ বাড়াতেই আইন সংশোধনের এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনটি স্তরে এই টাকার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কেউ ৫৬ হাজার টাকা মূল বেতন নিয়ে ৪০-৪৫ বছর বয়সে অবসরে গেলে ওই ২২ হাজার ৪০০ টাকার ২৬০ গুণ টাকা পাবেন তিনি। অর্থাত্ তিনি মোট ৫৮ লাখ ২৪ হাজার টাকা (২২,৪০০x২৬০) এককালীন পাবেন।
বর্তমান নিয়মে এই বয়সশ্রেণিতে ২৩০ গুণ টাকা এককালীন দেওয়া হয়। একইভাবে ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সে অবসরে গেলে আনুতোষিকের হার ২১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৪৫ করা হচ্ছে। আর ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ২৩০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে এটি কার্যকর হবে। প্রসঙ্গত, ওই সময় বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও আনুতোষিকের হার বাড়ানো হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া অনুমোদন
দশম জাতীয় সংসদের ২০১৫ সালের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করে। এ খসড়ার বিষয়ে মন্ত্রিসভা কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। পর্যবেক্ষণের আলোকে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। পর্যবেক্ষণগুলো রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে।
শোক প্রস্তাব গৃহীত

বরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ও বিশিষ্ট সাংবাদিক জগলুল আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুতে মন্ত্রিসভায় শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ তথ্য জানিয়ে বলেন, কাইয়ুম চৌধুরী একুশে ও স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন।