মুক্ত জেনারেল রুবেনের পদত্যাগ

কলম্বিয়ার সরকার ও ফার্কের কিউবায় বৈঠক

 
 
 
 
 
 
ফার্ক বিদ্রোহীদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া কলম্বিয়ার জেনারেল রুবেন দারিও আলজাতে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এ দিকে, কলম্বিয়ার সরকার ও বামপন্থী গেরিলা সংগঠন ফার্কের প্রতিনিধিরা স্থানীয় সময় মঙ্গলবার কিউবায় বৈঠকে বসেন। অপহূত পাঁচ সেনা কর্মকর্তাকে মুক্তি দেয়ার পর শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস এ কথা জানান। খবর বিবিসির।
রেভ্যুলেশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়া (ফার্ক) বিদ্রোহীদের হাতে আটক জেনারেল রুবেন দারিও আলজাতে রবিবার মুক্তি পাওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের এই ঘোষণা দেন। এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, কোনো দেহরক্ষী ছাড়াই বেসামরিক পোশাকে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করে যেমন আমি সামরিক বাহিনীর প্রটোকল ভেঙেছি, তেমনি ৩০ বছর আগে পরা এই পোশাকের অবমাননা করেছি। আর এ কাজ করে আমি জনগণের আস্থা হারিয়েছি।
গত ১৬ নভেম্বর দেশটির বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় দুই সঙ্গীকে নিয়ে বেড়াতে যান আলজাতে। সেখান থেকে তাদের অপহরণ করে ফার্ক বিদ্রোহীরা। তার অপর দুই সঙ্গী হলেন— এক ক্যাপ্টেন ও এক অ্যাটর্নি। তারা একটি বিদ্যুত্ প্রকল্প পরিদর্শনে যান বলে উল্লেখ করেন।
গেরিলা গ্রুপটি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রুবেন আলজাতেকে অপহরণের পর প্রেসিডেন্ট সান্তোস গত ১৬ নভেম্বর দুই বছর ধরে চলা শান্তি আলোচনা বাতিল করেন। ফার্কের গত ৫০ বছরের কর্মতত্পরতার মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তাকে অপহরণের ঘটনা। আলজাতেকে মুক্তির এক দিন পর প্রেসিডেন্ট জানান— আলোচনা শুরুর জন্য তিনি কিউবার রাজধানী হাভানায় সরকারি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছেন। শান্তি আলোচনা শুরুর পর এটি চতুর্থ দফার বৈঠক। কলম্বিয়ার গেরিলাযুদ্ধ অবসানে এটিই এ যাবত্কালের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল উদ্যোগ।
উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে ফার্ক বিদ্রোহীরা আন্দোলন শুরু করে। দীর্ঘ সময়ে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে দুই লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ২০১২ সালে সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহীদের আলোচনা শুরু হয়।