সোমবার রাতে দিল্লিতে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আপনারা দিল্লিতে রামজাদের (অর্থাৎ রামের সন্তানদের) সরকার চান,না কি হারামজাদের (অর্থাৎ পাপের সন্তানদের) সরকার চান সেটা আপনাদেরই স্থির করতে হবে।'
টিভি চ্যানেল আর সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্ত্রীর এই আপত্তিকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় ওঠে। তার পরও সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি নিজের ভুল স্বীকার করতে রাজি হননি।
তিনি বরং সাংবাদিকদের বলেন,'ভারতে রামজাদে বলতে সব ভারতবাসীকেই বোঝায়। কারণ এ দেশে হিন্দুরা তো বটেই - খ্রিষ্টান, মুসলিমরাও রামেরই সন্তান। যারা তা মানে না বুঝতে হবে তাদের ভারতের ওপরই কোনও বিশ্বাস নেই।'
কিন্তু মন্ত্রীর এই ব্যাখ্যায় চিড়ে ভিজেনি। বিজেপি নেতৃত্বও এই ঘটনায় বিব্রত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে বিজেপির এমপিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের সময় এই মন্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতিকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করেছেন বলেও জানা গেছে।
এর পর সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধীদলগুলোর সংসদ সদস্যরা মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। কংগ্রেস দাবি তুলে,সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতিকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করতে হবে।
৪৭-বছর বয়সী গেরুয়া-পরিহিতা সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি উত্তরপ্রদেশের ফতেহ্পুর থেকে নির্বাচিত হয়ে এই প্রথমবার লোকসভায় এমপি হয়ে এসেছেন। জেতার মাত্র ছ'মাসের মধ্যেই তাঁকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
উত্তর-ভারতের শহর-গ্রাম-মফস্বল আর টিভি চ্যানেলে ধর্মীয় কথকতা করেই বিপুল পরিচিতি আর জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি।