চুক্তি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নিলে সরকারই দায়ী থাকবে: সন্তু লারমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যেতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ঘোষিত সময় সীমার মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ না করলে উদ্ভূত যে কোন পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী থাকবে। এই আন্দোলন শুধু রাজপথে নয়, পাহাড়ের অন্দরে, মাঠে ঘাটে মোকাবিলার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

গতকাল শনিবার ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ১৭ তম বর্ষপূর্তিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভাপতির বক্তব্যে তিনি সরকারকে পূর্বের ঘোষিত কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ৩০ এপ্রিল ২০১৫-এর মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নে কোন প্রকার গাফিলতি করলে কর্মসূচি অনুযায়ী অসহযোগ আন্দোলনের পাশাপাশি জুম্ম স্বার্থবিরোধী সকল কার্যক্রম সর্বাত্মক প্রতিরোধ করা হবে। গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, যে কোন চুক্তি মানেই একটি অঙ্গীকার। কিন্তু সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি নিয়ে তার অঙ্গীকার প্রতি পদে পদে লঙ্ঘন করে চলেছে। তা না হলে চুক্তি বাস্তবায়ন না করে এবং চুক্তি লঙ্ঘন করে সেখানে মেডিক্যাল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার উদ্যোগ নিতেন না। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, একজন বাঙালি যেমন কখনোই একজন চাকমা হতে পারেন না, তেমনি একজন চাকমা বা একজন মারমা, গারো বা হাজংও কখনো একজন বাঙালি হতে পারেন না। জনসংহতি সমিতির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার এমপি বলেন, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর যেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো, সেখানে উল্টো চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে কার্যত পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করে রাখা হয়েছে। হাজেরা সুলতানা এমপি বলেন, ‘সাংবিধানিক অধিকার একটি জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্বের প্রশ্নের সাথে জড়িত, কিন্তু বাংলাদেশে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির প্রশ্নে সরকার বরাবরই উদাসীন।’ আদিবাসী নেতা দীপায়ন খীসার পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, প্রবীণ রাজনীতিক পংকজ ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের সদস্য বলেন, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহবায়ক ডা: অসিত বরণ রায়, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ মমতাজ লতিফ, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর মোস্তফা আলমগীর রতন প্রমুখ।