বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদারের লক্ষ্যে যৌথ কমিশনের বৈঠক আহ্বানের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
বুধবার পুত্রজায়ায় অবস্থিত সেদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সেন্টার অব ফেডারেল এডমিনিস্ট্রেশন অব মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে এই মতৈক্য হয়।
বৈঠকে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ নাজিব বিন তুন আব্দুল রাজাক নিজ নিজ পক্ষের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন। উভয় দেশের মন্ত্রিবর্গ এবং সিনিয়র কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানান, বৈঠকে যৌথ কমিশনের বৈঠক আহ্বান এবং দুই দেশের মধ্যে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ)-এই দু’টি ইস্যুতে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আগামী ২০১৫ সালে যৌথ কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। গত ২০০৫ সালে ঢাকায় যৌথ কমিশনের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্র সচিব মোজাম্মেল হক খান উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে আলোচিত তিনটি প্রধান ইস্যুর মধ্যে ছিল- ব্যবসা-বাণিজ্য, মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের বিষয় ও বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ। আলোচনায় এ বিষয়গুলোই সবচেয়ে গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর দেশ এই সম্পর্ককে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চায়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে শহীদুল হক বলেন, ‘দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন ধরনের বিরক্তিকর কিছু নেই। সুতরাং আমরা এই সম্পর্ককে একটি নতুনমাত্রা দিতে পারি।’
শহীদুল হক বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ মালয়েশিয়াকে দীর্ঘমেয়াদী এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য চাপ দেয়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই ইস্যুতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে এ সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা শুরু করেন। খবর বাসস।