গাজীপুর টঙ্গীতে ডাকাতি করতে গিয়ে ছুরিকাঘাত করে র্যাব সদস্যের স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-আবুল বাশার হাওলাদার, হারুন ঘরামি, সোনামিয়া মৃধা, রাজিব মোল্লা, মোহাম্মদ আবদুল হাই, রাশেদ চৌধুরী ও জাকির হোসেন।
মঙ্গলবার রাতে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব-৪ তাদের গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে বুধবার দুপুরে র্যাব-৪ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মাহমুদ খান জানান, নিহতের স্বামী র্যাব সদস্য শেখ ওমর আলী চাকরির সুবাদে সাভার থাকতেন। তার স্ত্রী সালমা সুলাতানা ওরফে সাথী থাকতেন টঙ্গীর বড় দেওড়া আদর্শপাড়া খাঁপাড়াস্থ নিজ বাসায়। সাথীর একাকি বসবাস ও ঘরে টাকা-স্বর্ণালঙ্কার থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গ্রেফতারকৃত হারুন ঘরামি ঐ বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিতে চান।
গত ৮ নভেম্বর হারুন ঘরামিসহ ৭ জন বাসা ভাড়ার অগ্রিম টাকা দেয়ার নামে ঐ বাড়িতে আসেন। ঐদিন সাথীকে তারা একা পেয়ে বাসায় থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা দাবি করে। কিন্তু সাথী অস্বীকৃতি জানালে হারুন ও রাজীব সাথীকে ধরে ফেলে। এ সময় সে চিত্কার করলে বাহিরে দাঁড়ানো সোনা মিয়া ও পূর্বের ভাড়াটিয়া কুলসুম ওরফে নদী শুনে ফেলে। এক পর্যায়ে সাথী আরও চিত্কার করার চেষ্টা করলে আসামী বাশার তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে সাথীর পেটের ডান পাশে উপর্যপুরি দুইবার ছুরিকাঘাত করে। এতে রক্তক্ষরণে সাথী মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলী একটি হত্যা মামলা করেন।
তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থলের পাশে একটি গার্মেন্টস কারখানার ভিডিও ফুটেজ পেয়ে র্যাব অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।