বাংলাদেশে গত বছরের তুলনায় দুর্নীতি বেড়েছে




দেশে দুর্নীতি বেড়েছে বলে ধারণা সূচক (সিপিআই) প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআই)। বিশ্বের মোট ১৭৫টি দেশের ‘‘দুর্নীতির ধারণা সূচক-২০১৪” এ বাংলাদেশের অবস্থান ১৪ তম। এই ধারণা সূচকে গতবছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬ তম। ধারণা সূচক-২০১৪ অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থান ২০১৩ সালের তুলনায় উভয় ক্ষেত্রেই হ্রাস পেয়েছে।
বৈশ্বিক গড় স্কোরের তুলনায় বাংলাদেশের ২০১৪ সালের স্কোর অনেক কম হওয়ায় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন হওয়ায় দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা উদ্বেগজনক। এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আরো কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ১০০ স্কোরের মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের স্কোর ২৫। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ২৫ স্কোর পেয়েছে গিনি, লাওস, কেনিয়া ও পাপুয়া নিউগিনি। গত বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৭।
এ তালিকায় মাত্র আট স্কোর করে শীর্ষে রয়েছে সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়া। এছাড়া ১১ ও ১২  স্কোর পেয়ে তালিকার সর্বনিম্নের দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে সুদান ও আফগানিস্তান। পরবর্তী দেশগুলো পর্যায়ক্রমে- দক্ষিণ সুদান, ইরাক, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, লিবিয়া, ইরিত্রিয়া, ইয়েমেন, ভেনেজুয়েলা, হাইতি, গিনি, অ্যাঙ্গোলা, সিরিয়া, ব্রুন্ডি, জিম্বাবুয়ে, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, চাদ, তাজিকিস্তান, কঙ্গো, প্যারাগুয়ে, পাপুয়া নিউগিনি, লাওস, কেনিয়া, গিনি, বাংলাদেশ। অন্যদিকে, কম দুর্নীতিগ্রস্ত তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক। ডেনমার্কের স্কোর ৯২। এছাড়া ৯১ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় নিউজিল্যান্ড, তৃতীয়, ফিনল্যান্ড।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি‘র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ বছর বাংলাদেশ ০-১০০ স্কেলে ২৫ স্কোর পেয়ে ১৭৫টি দেশের মধ্যে ঊর্ধ্বক্রম (ভালো থেকে খারাপের দিকে) অনুসারে ১৪৫তম এবং নিম্নক্রম (খারাপের তালিকা) অনুসারে ১৪তম অবস্থানে রয়েছে। ২০১৩ সালের তুলনায় অবস্থানের নিম্নক্রম অনুযায়ী দুই ধাপ নিচে নেমেছে এবং গত বছরের চেয়ে দুই স্কোর কম পেয়েছে বাংলাদেশ। গতবছর বাংলাদেশ স্কোর পেয়েছিল ২৭। এছাড়াও উচ্চক্রম অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশ এবছর নয় ধাপ নিচে নেমে গেছে। এছাড়া একমাত্র আফগানিস্তান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নিম্নক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের সিপিআই অনুযায়ী ৯২টি দেশের স্কোর বৃদ্ধি পেয়েছে, আগের স্কোর ধরে রেখেছে ৪৭টি এবং অবনতি হয়েছে ৩৬টি দেশের। বাংলাদেশ এই অবনতির তালিকায় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল বলেন, “দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক বিস্তার এবং জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের দরিদ্র জনগণ। আমরা সরকারের কাছ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। সেকারণে রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে। যেকোনো সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য হচ্ছে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধের দাবি উত্থাপনে সোচ্চার হওয়া। দুর্নীতি দূর করতে হলে সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যম, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান, ড. এটিএম শামসুল হুদা এবং উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের।