প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সকালে দেশের উদ্দেশে কুয়ালালামপুর ত্যাগ করেছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ নাজিব বিন তুন হাজী আব্দুল রাজাকের আমন্ত্রণে মালয়েশিয়ায় তিন দিনের এক সরকারি সফর শেষে শেখ হাসিনা দেশে ফিরছেন। খবর: বাসসের।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) ত্যাগ করে।
ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় দুপুর দুইটা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ বিষয়ক উপমন্ত্রী শ্রী হাজী ইসমাইল হাজী আব্দুল মুত্তালিব এবং মালয়েশিয়ায় নিয়োজিত বাংলাদেশ হাইকমিশনার একেএম আতিকুর রহমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
এর আগে মালয়েশিয়ার সশস্ত্রবাহিনী প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
এই সফরকালে শেখ হাসিনা বুধবার বিকেলে পুত্রজায়া পার্দানা স্কয়ারে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দফতরে তাঁর সমপরে সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনার পর জনশক্তি রফতানি, পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি খাতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে চারটি বিষয়ে স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে, একটি চুক্তি, দুইটি সমঝোতা স্মারক ও একটি প্রটোকল চুক্তি।
দুই দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো হচ্ছে ভিসা শর্তাবলী আংশিক বিলোপ বিষয়ে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার মধ্যে চুক্তি, পর্যটন খাতে সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও শিল্প ঐতিহ্য খাতে সহযোগিতা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সম্পর্কিত ২০১২ সালের প্রটোকল সংশোধন।
প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে গ্রান্ডহায়াত হোটেল বলরুমে ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সুবিধা’ বিষয়ে একটি সংলাপে যোগ দেন।
তিনি বুধবার পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সেরি পার্দানায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত এক নৈশভোজ সভায় অংশ নেন।
মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার রাজধানীতে গ্রান্ড হায়াত হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
মালয়েশিয়ার গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্রোটনের’ নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান এবং মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহথির মোহাম্মদ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।