মুসা বিন শমসেরকে তলব করেছে দুদক

অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যান আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তার কাছে নোটিশ পাঠানো হয়। ওই নোটিশে তাকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর সকাল দশটায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সাময়িকী ‘বিজনেস এশিয়া’র প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দুদক তার সম্পদ যাছাই ও অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সুইস ব্যাংকে মুসা বিন শমসেরের ৭ বিলিয়ন ডলার রয়েছে। বিদেশে অর্থ পাচার এবং অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তলব করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মুসা বিন শমসেরের সম্পদের বিষয়ে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
২০১১ সালের ২৪ জুন তার ব্যাংক হিসাব তলব করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে তার নো ইউর কাস্টমার (কেওয়াইসি) ফর্মের সব তথ্য জানতে চাওয়া হয়।
ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে মুসার সব ব্যাংকের স্থায়ী, চলতি, সঞ্চয়ী, ডিপিএস, এসপিডিএস, এফডিআর বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে হিসাব পরিচালিত হয়েছে বা হচ্ছে কি না সে সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া হিসাব খোলার দিন থেকে হালনাগাদ হিসাব বিবরণী দাখিল করতে তফসিলিভুক্ত ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়। দুদকের চাহিদার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব হিসাব তলব করলেও পরে রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সূত্র আরো জানায়, ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুযায়ী মুসা বিন শমসেরই বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার সম্পত্তি ১২ বিলিয়ন ইউএস ডলারের ওপরে। তিনি অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক পরিচিত।
১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী টনি ব্লেয়ারের নির্বাচনী প্রচারের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশের এ ব্যবসায়ী। চলতি বছর ‘বিজনেস এশিয়া’ ম্যাগাজিন মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশি এ ধনাঢ্য অস্ত্র ব্যবসায়ীর ৭ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে সুইস ব্যাংকে।
জানা গেছে, মুসার জন্ম ১৯৫০ সালের ১৫ অক্টোবর ফরিদপুরে। তিনি ড্যাটকো গ্রুপের মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানি করেন। তবে তার পরিচিতি তুলে ধরতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো অস্ত্র ব্যবসার কথাই আগে আনে।
দুদক সূত্র জানায়, আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের বিদেশে অর্থ পাচার এবং অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বর্তমানে অনুসন্ধান করছেন দুদকের উপপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদিন শিবলী। এর আগে এই অভিযোগটি দুদকের উপপরিচালক শেখ ফাইয়াজ আলম অনুসন্ধান করছিলেন। অনুসন্ধানে গতি আনতে কর্মকর্তা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।