যুক্তরাষ্ট্রে আরেক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনায় শ্বেতাঙ্গ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে দেশটির নাগরিকরা। দেশটির বিভিন্ন শহরে দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাপক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এসব বিক্ষোভে কেবল কৃষ্ণাঙ্গরাই নয়, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। গত বুধবার এরিক খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
নিউইয়র্কে বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবাদকারীরা কফিন বহন করে এবং এই হত্যাকে বর্ণবাদী বলে উল্লেখ করে। তারা এখনই এসব হত্যার সমাপ্তি দাবি করে। জ্যাসন পোলক নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ বলেন, পদ্ধতিগত বর্ণবাদিতায় আমরা এখন ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। আমরা রাস্তায় নেমেছি এটা জানাতে যে আমরাও মানুষ। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করছে। তারা বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বলছে। না হলে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হচ্ছে। বুধবার অবস্থান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলেও ৮০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো বলেছেন, শ্বেতাঙ্গদের মতোই কৃষ্ণাঙ্গ এবং বাদামীরা একই ধরনের মানুষ। তিনি জানান, নিউইয়র্কের রাস্তায় ২২ হাজার পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে। তিনি এই ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মেয়রের কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নিউইয়র্ক ছাড়াও শিকাগো, ওয়াশিংটন, দেনভার এবং বোস্টনে বিক্ষোভ চলছে। অনেক স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১৩ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে প্রতিবাদকারীরা। গত ১৭ জুলাই এরিক গার্ণারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ গার্ণার কর ফাঁকি দিয়ে সিগারেট বিক্রি করছিলেন। এরপর পুলিশ কর্মকর্তা ড্যানিয়েল পানটেলিউ তার কাঁধে বন্দুক ধরেন। এসময় গার্ণার নিচে পড়ে যান। তার অ্যাজমা রোগ ছিল। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বারবার বলছেন,আমি নি:শ্বাস নিতে পারছি না। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা সেটা কর্ণপাত করেননি। এরপর মারা যান এরিক। গত বুধবার গ্র্যান্ড জুরি ড্যানিয়েল পানটেলিউকে ওই অভিযোগ থেকে রেহাই দেন। এরপর বিক্ষোভ শুরু হয়। এছাড়া মাইকেল ব্রাউন নামের এক কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যার দায় থেকেও গ্র্যান্ড জুরি মুক্তি দেয়ার পর বিক্ষোভ চলে।