হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১২৪ কেজি স্বর্ণ আটকের ঘটনার দেড় বছর পর মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে বিমানের দশ কর্মীসহ ১৪ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করা হয় বিমানবন্দর থানায়। মামলার বাদি শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোস্তফা জামাল। মামলাটি তদন্ত করবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার আসামিরা হলেন বিমানের সুইপিং সুপারভাইজার আবু জাফর, এয়ারক্রাফট মেকানিক মাসুদ, সিকিউরিটি অফিসার কামরুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসার সালেহ আহমেদ, মজিবর রহমান, অ্যাসিস্ট্যান্ট এয়ারক্রাফট মেকানিক আনিস উদ্দিন ভুঁইয়া, প্রকৌশলী হ্যাঙ্গারের মেকানিক ওসমান গণি, জুনিয়র ইন্সপেকশন অফিসার শাহাজাহান সিরাজ, রায়হান আলী ও মাকসুদ। অপর চার আসামি হচ্ছেন নেপালের নাগরিক গৌরাঙ্গ রোসান, ভারতীয় নাগরিক জেসন প্রিন্স, বাংলাদেশের এসএস কার্গোর চেয়ারম্যান মিলন শিকদার ও জসীম উদ্দিন। এ ছাড়া গতকাল শনিবার পৌনে চার কেজি স্বর্ণসহ গোলাম কবির সিকদার নামে এক যাত্রী আটক হয়েছেন।
ঢাকা কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার কাজী মোঃ জিয়াউদ্দিন জানান, গত বছর ২৪ জুলাই বাংলাদেশ বিমানের এয়ারক্রাফট এস-২ এডিএফ থেকে ১২৪ কেজি স্বর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই চালানে ১ হাজার ৬৫টি সোনার বার এসেছিল, যার মূল্য প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। এ ঘটনায় শুল্ক ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালককে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কয়েকদিন আগে এ তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট রাজস্ব বোর্ডের কাছে দাখিল করে। রিপোর্টের ভিত্তিতেই দশ বিমান কর্মকর্তাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মিনহাজুল ইসলাম জানান, সম্প্রতিক সময় চোরাই সোনা আটকের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে বড় চালান। তিনি জানান, স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৮ নভেম্বর বিমানের তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গ্রেফতার হন, তারা হলেন– বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম-ফ্লাইট) মো. এমদাদ হোসেন, বিমানের প্লানিং এ্যান্ড সিডিউলিংয়ের প্রধান আসলাম শহীদ ও সিডিউলিং ম্যানেজার, তোজাম্মেল হোসেন। এছাড়াও বাংলাদেশ বিমানের ঠিকাদার মাহমুদুল হক পলাশ ও ফারহান মানি এক্সচেঞ্জের মালিক হারুন অর রশীদও গ্রেফতার হন। তারা স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পৌনে চার কেজি স্বর্ণসহ যাত্রী আটক
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গতকাল শনিবার তিন কেজি ৮০০ গ্রাম স্বর্ণসহ মালয়েশিয়া থেকে আসা এক যাত্রীকে আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ঐ যাত্রীর নাম এ কে এম গোলাম কবির সিকদার। সকাল ১১টার দিকে বিমানবন্দরের বোর্ডিং লাউঞ্জ পার হওয়ার সময় যাত্রীর শরীর তল্লাশি করে ৮টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। যার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।