এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় ২০ পেলেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা, বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির কোটা প্রত্যাহার এবং নিজস্ব উদ্যোগে স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)।
রবিবার রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোর সংগঠন বিপিএমসিএ’র সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পর্যন্ত বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয় এক হাজার ২১৭ জন ভর্তি হয়েছেন। দেশের ৬৩টি বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে আসনসংখ্যা ছয় হাজার ৬০৫টি। পাস নম্বর না কমালে আসনগুলো শূণ্য পড়ে থাকবে।
২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তিও যোগ্যতা ১২০ নির্ধারণ করায় ৩০-৩৫ শতাংশ আসন খালি রেখে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান চাই।
বিপিএমসিএ’র দাবি, ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ থেকে কমিয়ে ২০ এবং ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের আবেদনের যোগ্যতা মোট জিপিএ ৮ থেকে কমিয়ে জিপিএ ৭ নির্ধারণ করতে হবে।
বিপিএমসিএ’র সভাপতি বলেন, শুধু মান নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে বেসরকারী মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলো এখন অস্তিত্ব রক্ষার কঠিন পরীক্ষায় পড়েছে। এটি ভবিষ্যতে চিকিত্সা শিক্ষা ও সেবা খাতে বিপর্যয় ডেকে আনবে। নতুন শর্তগুলো দিয়ে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলো বন্ধ করার পায়তারা চলছে।
বিপিএমসিএ’র নেতারা বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য ৪০ নম্বর বেঁধে দেয়া হলেও, প্রায় ৮০০ ছাত্র এ নম্বর না পেয়েও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের অনাপত্তিপত্র নিয়ে এ বছর বিদেশে পড়তে যাচ্ছে। তারা ফিরে এসে দেশের হাসপাতালগুলোতে নিয়োগ পেতে পারবেন। বিদেশগামীরা ৪০’র কম পেয়ে দেশের চিকিত্সাসেবায় যুক্ত হতে পারলে দেশে শিক্ষিতরা কেন পারবেন না? এক দেশে দুই নীতি চলতে পারে না।
সংগঠনের নেতারা মেডিকেল কলেজগুলোর একাডেমিক কর্তৃপক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি একাধিকবার ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শে পাস নম্বর ৪০ র্নিধারণ করা হয়েছে।
সংগঠনের উপদেষ্টা মকবুল হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এ বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের কথা ‘খুব একটা শোনে-টোনে না, জবাবদিহি করে না।’ তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় নটর ডেম, হলিক্রস, রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ছাত্ররা অংশ নিলেও মাত্র দুই জন ইংরেজিতে পাস করেছেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নম্বর কমাতে বাধ্য হয়েছে। ১৮ পেয়ে (ইংরেজি বিষয়ে ২৫ নম্বরের বিপরীতে ১৮) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ- কুমিল্লার চেয়ারম্যান শাহ্ মো. সেলিম, ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজের পরিচালক মো. ইকরাম হোসেন বিজু, তায়েরুন্নেছা মেডিকেল কলেজের পরিচালক মো. হাবিবুল হক।