যুক্তরাষ্ট্রে এক কৃষ্ণাঙ্গকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় শ্বেতাঙ্গ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে দেশটির নাগরিকরা। বিক্ষোভ যথারীতি সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে তৃতীয় দিনের মতো ব্যাপক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এসব বিক্ষোভে কেবল কৃষ্ণাঙ্গরাই নয়, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের।
নিউইয়র্কে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও ক্যালিফোর্নিয়ায় বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করেছে। এখানে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করছে এবং বাসা ও অফিসের জানালা ভাঙ্গচুর করছে। পুলিশ সদস্যদেল লক্ষ্য করে পাথর এবং বোতল ছুঁড়ে মারা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার বারকেলি’র রাস্তায় প্রায় ২শ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। এদের মধ্যে কিছু প্রতিবাদকারী সহিংস আচরণ করছেন। কিছু আবার এদের সহিংস ঘটনা না ঘটাতে বাধা দিচ্ছেন। পুলিশ বিক্ষোভাকারীদের হটাতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করছে। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে না। অনেকে ব্যাংকেও হামলা চালাচ্ছেন। পুলিশের নারী মুখপা জেনিফার কোটস জানিয়েছেন, কিছু বিক্ষোভাকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে যাতে দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। নিউইয়র্কে এরিক গার্ণারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর বিক্ষোভ চললেও পরিস্থিতি আগের চেয়ে শান্ত। গার্ণারের মা গুয়েন কার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার আহবান জানিয়েছেন। গার্ণারের স্ত্রী জানান, তিনি তার সন্তানদের বলেছেন, দেখ তোমার বাবাকে কত মানুষ ভালবাসেন। তারা সবাই তোমার বাবার জন্য রাস্তায় নেমেছেন। গত ১৭ জুলাইয়ে ছয় সন্তানের বাবা এরিক গার্ণারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু গ্র্যান্ড জুরি গত বুধবার শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাদের রেহাই দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর বিক্ষোভে ফুঁসে কৃষ্ণাঙ্গসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।