‘সিআইএ মার্কিন নাগরিকদের বিভ্রান্ত করেছে’

মঙ্গলবার সিনেট ইনটেলিজেন্স কমিটি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলার পর কয়েক বছর ধরে জঙ্গি সন্দেহে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের ওপর ‘মার্কিন মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ নিষ্ঠুর অত্যাচার করা হয়েছে। অত্যাচারের মাধ্যমে তাঁদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। আর পুরো বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) ঠান্ডা মাথায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের বিভ্রান্ত করে গেছে।

প্রতিবেদনটির ফাঁস হওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, আটক বন্দী, বিশেষ করে জঙ্গি সন্দেহে আটক লোকজনের কাছ থেকে তথ্য বের করতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁদের যৌন নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছে, না ঘুমাতে দিয়ে দিনের পর দিন জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে। কোনো তথ্য না পেয়েও নির্যাতন বন্ধ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে সন্দেহভাজন আল-কায়েদা জঙ্গিদের ওপর এ নির্যাতনের নীতি গ্রহণ করেছিল সিআইএ। বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এ নীতি বাতিল করেন। মঙ্গলবার এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, “যে প্রক্রিয়ায় বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তা মার্কিন মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক”। তিনি বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদের ওই পদ্ধতিগুলো মার্কিন ভাবমূর্তিকে বড় ধরণের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। এতে বৈশ্বিক নানা বিষয়ে বিশ্বসহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে”। তবে ডেমোক্র্যাটিক নেতারা বলেছেন, ওসামা বিন লাদেন ও অন্যান্য জঙ্গিদের তথ্য পাওয়ার জন্য অমানবিক উপায়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার দরকার ছিল।

এদিকে, এই প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাস ও মার্কিন স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে আগাম সতর্কতা হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।
বিবিসি, রয়টার্স