সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি: আইনমন্ত্রী

 
 
 
 
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ‘একক কোনো দেশের জন্য সন্ত্রাসবাদ নির্মূল কষ্টসাধ্য ব্যাপার। সকলের অংশগ্রহণ, সমন্বয় এবং সহযোগিতামূলক পদক্ষেপেই এর সমাধান হতে পারে।’ বুধবার তিন দিনব্যাপী ‘গুড গিভিং: কাউন্টারিং টেরোরিস্ট ফাইন্যান্সিং অ্যান্ড ভায়োলেন্ট এক্সিট্রিমিজম ইন দ্য চ্যারিটেবল কমিউনিটি’ শীর্ষক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বক্তব্য দেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা দরকার। ইতিমধ্যে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের অনেক দেশ দাতব্য কার্যক্রম ও আইনের ওপর সজাগ দৃষ্টি রেখে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলো লাখ লাখ ডলার সংগ্রহ করে থাকে। সাধারণত এ সব প্রতিষ্ঠান আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো এই অর্থের একটা অংশ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যয় হচ্ছে। এর অনেক নজির ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। ২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় দাতব্য অর্থ ব্যয়ের তথ্য বিভিন্ন সময় তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।’
আনিসুল হক বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। অন্য দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের ভূমিও ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। সন্ত্রাসের হুমকি মোকাবিলায় ইতিমধ্যে সরকার সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইন করেছে। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধে এন্টি-মানি লন্ডারিং আইন করেছে। সন্ত্রাসবাদ দমনে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তারা বাংলাদেশের সফলতা থেকে উত্সাহিত হতে পারে।’
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের একটি উপায় হচ্ছে দাতব্য। সন্ত্রাসীরা সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অনৈতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠা করে। ভালো উদ্দেশ্যে দেয়া দাতব্য অর্থকে সন্ত্রাসীরা সহিংসতায় ব্যয় করে। শান্তিপূর্ণ, বৈচিত্র্যময় এবং একটি সহনশীল সমাজ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের অনৈতিক দাতব্য কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সচেতন হবে এবং অর্থায়নকে রুখতে হবে। 
মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত তিন দিনের কর্মশালায় বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, নেপাল, ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।