বোতামের কার্টন থেকে ৪৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবার বোতামের কার্টন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৩ কেজি স্বর্ণ। গতকাল বুধবার ভোরে বিমানবন্দরের কার্গো রাখার স্থান থেকে এ স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। তিনটি কার্টনে এগুলো রাখা ছিল। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ২১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।  ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কার্যদিবসে তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন  জমা দেবে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ-৪৪৬ ফ্লাইটে এই স্বর্ণের বারগুলো বাংলাদেশে আনা হয়। প্রতিটি বারের ওজন এক কেজি। বারগুলো তিনটি বোতামের কার্টনে রাখা ছিল। চট্টগ্রাম ইপিজেডে অবস্থিত পোশাক তৈরির একটি কারখানার নামে কার্টনগুলো আসে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, ইতিমধ্যে বেশ কিছু পরিমাণ স্বর্ণ আটকের  ঘটনায় চোরাকারবারিরা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে পারে এ ব্যাপারে আগে থেকেই শুল্ক গোয়েন্দা টিম তত্পর ছিল। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মিনহাজুল  ইসলাম জানান, তিনটি কার্টনের মোট ওজন ছিল ৮৩ কেজি। এর মধ্যে ৪০ কেজি বোতাম এবং ৪৩ কেজি স্বর্ণবার ছিল।
সামপ্রতিক সময়ে চোরাই স্বর্ণের সবচেয়ে বড় চালানটি আটক হয় গত বছরের ২৪ জুলাই। ১২৪ কেজির এ চালানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বাংলাদেশ বিমানের এয়ারক্রাফট এস-২ এডিএফ থেকে। এ ঘটনায় শুল্ক ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালককে প্রধান করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কয়েকদিন আগে এ কমিটি তাদের রিপোর্ট রাজস্ব বোর্ডে দাখিল করে। রিপোর্টের ভিত্তিতেই  ঘটনার দেড় বছর পর গত শুক্রবার রাতে বিমানের ১০ কর্মকর্তাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া গত ২৬ এপ্রিল দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ১০৬ কেজি স্বর্ণ। এছাড়া গত ১৮ নভেম্বর চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক উপমহাব্যবস্থাপকসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ২৪ নভেম্বর চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে মঙ্গলবার শাহজালালসহ দেশের চারটি বিমানবন্দরে চোরাচালান রোধে ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার।