প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আরও প্রায় ১৬ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। আগামী শনিবার অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। শেষ হবে ১২ জানুয়ারি।
দেশের ৩৭ হাজার ৬৭২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য একজন করে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। কয়েক ধাপে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুই দফা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
আবেদনের জন্য পুরুষ প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি এবং নারীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক। নিয়োগের ক্ষেত্রে ৮০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ১৫ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা এবং ৫ নম্বরের একাডেমিক অর্থাত্ প্রার্থীর এসএসসি ও এইচএসসির ফলের ওপর ভিত্তি করে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হবে।
১২ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। শুধু মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা ও প্রতিবন্ধীর ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩২ বছর হবে।
২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকেই দেশের সব সরকারি বিদ্যালয়ে ‘শিশু শ্রেণী’ নামে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু বাধ্যতামূলক করা হয়। শিশুদের বিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, ভর্তির হার বাড়ানো ও ঝরে পড়া রোধে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য এক বছর মেয়াদী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়। তখন ছয় হাজার ৯৩৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল। নির্বাচিত প্রার্থীকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাদান সংক্রান্ত বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।
যেভাবে অনলাইনে আবেদন করতে হবে
প্রার্থীদের http://dpe.teletalk.com.bd এবং www.dpe.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। এরপর আবেদনকারীদের একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দেয়া হবে। ১৩ ডিসেম্বর থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন ফি নেয়া হবে। কেবল ইউজার আইডি পাওয়া প্রার্থীরা এ সময়ের পর ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত আবেদন ফি দিতে পারবেন। পরীক্ষার ফি ১৬৬ টাকা ৫০ পয়সা টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। লিখিত পরীক্ষার বিষয়ে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।