সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বন অধিদপ্তর। একই সাথে ডুবে যাওয়া জাহাজটি উদ্ধার হওয়ায় পানিতে নতুন করে তেল ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দূর হয়েছে। বৃহস্পতিবার বন অধিদপ্তরের গণসংযোগ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বন অধিদপ্তর। এ বিষয়ে পেরুর রাজধানী লিমায় ২০তম জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেয়া পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং সচিব জনাব মো. নজিবুর রহমান সেখান থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।
বন অধিদপ্তর জানায়, নৌবাহিনী এবং বন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তেলবাহী ট্যাংকারটি শ্যালা নদীর পাড়ে আনা সম্ভব হয়। তেলসহ ট্যাংকারটি নদীর পাড়ে ওঠানো সম্ভব হয়েছে। সুতরাং, নতুন করে আর কোনো তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই।
ট্যাংকারডুবির ঘটনায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) নুরুল করিমকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আজ কমিটি সুন্দরবনের ওই অঞ্চলে সরেজমিন পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ অঞ্চল দিয়ে নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ দিকে, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি বুধবার সকালে সরেজমিনে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি নির্দেশ দেন। সার্বিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। দুর্ঘটনার পর থেকে প্রধান বন সংরক্ষক দুর্ঘটনা স্থলে অবস্থান করছেন। নৌ বাহিনীর সহায়তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে রাসায়নিক ব্যবহার না করে স্পঞ্জ ও চটের বস্তা দিয়ে প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর এলাকায় ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি তেল সরানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে কাজে লাগানো হবে জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
আর এ কাজে এলাকাবাসীকে উৎসাহী করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে দুটি ‘পারচেইজিং সেন্টার’ খুলছে পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ। গ্রামবাসী নদী আর খাল থেকে সংগ্রহ করা তেল ঐ ক্রয় কেন্দ্রে বিক্রি করতে পারবেন।
বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দোহা খন্দকার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তিন দিন গ্রামবাসীর সহায়তা নিয়েই তেল সংগ্রহের চেষ্টা হবে। পরে রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে সাড়ে তিন লাখ লিটার ফার্নেস তেলসহ একটি ট্যাংকার ডুবে যায়।