বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের জনগণ ও বিদেশিদের চাপ থাকা সত্ত্বেও নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় ও জামানত হারানোর ভয়ে নতুন নির্বাচন দিতে চাচ্ছে না বর্তমান অনির্বাচিত ক্ষতমাসীনরা। তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের হলরুমে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি একথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি নুরে আরা সাফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী প্রমুখ।
সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করতে দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান মির্জা আলমগীর। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণের ওপর অবৈধ ও অনৈতিকভাবে চেপে বসা জুলুমবাজ সরকারকে সরিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে বাধ্য করতে হবে।
ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে সরকার সব গণতান্ত্রিক পথ রুদ্ধ করেছে অভিযোগ করে মির্জা আলমগীর বলেন, তারা অতীতের মতো দ্বিতীয়বার বাকশাল কায়েম করতে চায়। সে জন্য বিরোধী দলকে ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতি থেকে তাকে দূরে রাখতেই এসব মামলা দেওয়া হচ্ছে। কারণ, ক্ষমতাসীনরা তারেক রহমানকে ভয় পায়। তারেক রহমানকে তরুণ প্রজন্মের ‘জনপ্রিয় সম্ভাবনাময় নেতা। যেদিন তিনি (তারেক রহমান) এয়ারপোর্টে নামবেন সেদিন লাখ লাখ মানুষের ঢলে এই সরকার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
এ সময় ব্যারিস্টার তুহিন মালিকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়েরের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
মির্জা আলমগীর বলেন, ক্ষমতাসীনরা গণতান্ত্রিক সমাজে বাকস্বাধীনতার কথা বলে। কিন্তু এই সরকারের শাসনামলে শুধু কথা বলার জন্য মামলা হয়, সাত বছরের জেল হয়। কার্টুন আঁঁকার জন্য মামলা হয়, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এগুলো কোনো সভ্য সমাজে হয় না।