কর্মজীবী শিশু দিবস উদ্যাপন

শিক্ষা অর্জন করে উন্নত জীবন গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত

 
 
 
ওদের কেউ বাসা বাড়িতে কাজ করে, কেউ আবার কলে-কারখনায়, কেউবা মা-বাবার সাথে সংসারের বোঝাটানের অংশীদার। ছোট্ট এই বয়সে আয়ের পথে পা বাড়ালেও তারা শিক্ষা গ্রহণ থেকে দূরে সরে নেই। নানা ঘাতপ্রতিঘাত সয়ে তারা শিক্ষা নিয়ে চলেছে ইউসেপ বাংলাদেশের কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায়। আর এই শিক্ষাগ্রহণ সম্পন্ন করে তারা উন্নত জীবন গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে নাচ-গান আর অঙ্গীকারের মাধ্যমে। শনিবার ইউসেপ বাংলাদেশের যাত্রাবাড়ী টেকনিক্যাল ক্যাম্পাসে কর্মজীবী শিশু দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠানে তারা এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
‘হেল্প টু লার্ন , স্কিল টু আর্ন’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শুরু হওয়া উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াডন। এ ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধি বৃন্দসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রিত অতিথিরা ইউসেপ এর কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শিশুদের জীবনে সকল বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে শিক্ষার প্রতি শিশুদের আগ্রহ দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা ও শিক্ষার ফলাফলের কৃতিত্ত্বের জন্য অভিনন্দন জানান এবং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন কামনা করেন। তারা বলেন,বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই শিশুরাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবন মান উন্নয়নে ইউসেপ বাংলাদেশ অসামান্য ভূমিকা পালন করে আসছে। এই হত দরিদ্র শিশুদের আর্থ-সমাজিক উন্নয়নে সকলকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য আহ্বান জানান ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক জাকি হাসান। তিনি বলেন এই সমস্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণের জন্য জীবনের সকল বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে গভীর মনোযোগী হতে হয়। তিনি এই সমস্ত শিশুদের সাহায্যার্থে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান করেন। 
কর্মজীবী শিশু শিক্ষার্থী দিবস উপলক্ষে দিনজুড়ে প্রতিষ্ঠানের শিশুরা বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। তাদের উত্সাহ দানের জন্য টিভি অভিনেত্রী শমী কায়সার, মেহজাবীন সহ গনমাধ্যমের জনপ্রিয় ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। 
শিশু ও নারী অধিকারের বিভিন্ন ইস্যুতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং কমিউনিটিতে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং ইউসেপ এর শিক্ষার্থীদের স্কুলে নিয়মিত করতে ইউসেপ এর শিশু ও নারী অধিকার অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম (ুচাইল্ড এন্ড ওমেন রাইটস এডভোকেসি প্রোগ্রাম-সিডাব্লিউআরএ) পরিচালিত হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে এবং কর্মপরিবেশে জেন্ডার সমতা বজায় রাখতে বিভিন্ন অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সি ডব্লিউ আর এ। সচেতনতামূলক এসব কার্যক্রমে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং কমিউনিটির সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন প্রচারনামূলক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রচারণার একটি অংশ হল ‘কর্মজীবী শিশু দিবস’ উদযাপন করা হয়।

উল্লেখ্য, ইউসেপ-বাংলাদেশ একটি শীর্ষ স্থানীয় এনজিও যা শহরে সুবিধাবঞ্চিত শ্রমজীবী শিশুদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৮টি  জেলায় সর্বমোট ৫৩টি সমন্বিত সাধারণ ও কারিগরি স্কুল ও ১০ টি টেকনিক্যাল স্কুলের মাধ্যমে সর্বমোট ৪৮০০০ হাজার শিক্ষার্থীর ‘শিশু শ্রম রোধ ও শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করণ’ এই আহবানের মধ্যে দিয়ে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই সংস্থাটি কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।