দেশের বোঝা আওয়ামী লীগকে সরাতে হবে

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগকে দেশের জন্য বোঝা আখ্যায়িত করে বলেছেন, এখন এই বোঝা সরাতে হবে। এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারলেই দেশে শান্তি আসবে। সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমাকে আর বাড়িতে আটকে রাখার চেষ্টা করবেন না। সাহস থাকলে রাজপথে মোকাবিলা করুন। চোখের পানি মোছার দিন আর নেই। এখন শীত-গরম সব উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসতে হবে।

গতকাল শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে ২০ দল আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিদ্যুত্-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির চক্রান্ত প্রতিরোধ, গুম-খুন-গুপ্ত হত্যার প্রতিবাদ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি’তে আয়োজিত এই জনসভা শুরু হয় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।
খালেদা জিয়া সিভিল প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে বলেন, মিথ্যা কথা বলে ভালো ভালো সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে। কয়েকদিন আগে একজন অফিসারকে মিথ্যা অভিযোগে চাকরি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এদেশে আজ কোনো প্রতিষ্ঠান ঠিক নেই। সব প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগ ধ্বংস করছে। দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। সবখানে চলছে দুর্নীতি।
তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাস বিজয়ের, এই মাস আনন্দের। কিন্তু মানুষের মনে আনন্দ নেই। কারণ, তারা পদে পদে লাঞ্ছিত, গুম-হত্যার শিকার। র্যাবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাকে ধরলেই সব খুন, গুম, হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসবে। তাকে গ্রেপ্তার না করলে গুপ্তহত্যা বন্ধ হবে না।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আমাদের সময় র্যাব গঠন করা হয়েছিল। তখন তারা ভালো কাজ করেছিল। দেশে এবং বিদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সেই র্যাব এখন হয়ে গেছে খুনি। তিনি বলেন, আমার সাথে সরকারি অফিসাররা দেখা করলে চাকরি যায়। কিন্তু র্যাবের ওই কর্মকর্তাকে কেন চাকরিতে রাখা হয়েছে?
বিচারকদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, বিচারকরা ১৫টি মামলায় হাসিনাকে খালাস দিয়েছেন। দেশের বিচার ব্যবস্থা কোন পর্যায়ে গেছে? বিচারকরা আওয়ামী লীগ দেখলেই খালাস দেয় আর বিএনপি জামায়াত হলেই বলেন, জেলে পুরো। বেগম জিয়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ এলেই খুন, গুম ও দুর্নীতি বেড়ে যায়। তাদের সঙ্গে যারা রয়েছে তারা প্রত্যেকেই মানুষ খুন করেছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে স্বৈরাচার এরশাদ। এই এরশাদের নাম ছিল বিশ্ব বেহায়া। স্বঘোষিত বেঈমান। এরা এক সাথে হলে দেশ ও মানুষের কী হতে পারে?
৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে আবারো অবৈধ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। একইসঙ্গে সরকারি ব্যাংকে দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন বিদ্যুতের উন্নতি হয়েছে। তাহলে গরমের সময় এতো লোডশেডিং হলো কেন। তারা দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এখন কোথাও গ্যাস পাওয়া যায় না। এর কারণে বহু শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো যাবে না। যদি বাড়ানো হয় তাহলে আমরা আর বসে থাকবো না। এদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো।
খালেদা জিয়া বলেছেন, সুন্দরবনের দুর্ঘটনা পরিকল্পিত। সুন্দরবনে আর পশুপাখি থাকবে না, পালিয়ে যাবে। ওটা অয়েল ট্যাংকার ছিল না, ছিল বালুর ট্যাংকার। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। এ সরকার শুধু মানুষখেকো নয়, পশুখেকোও। ওরা বাংলাদেশ খেয়ে ফেলতে চায়। যখনই ডাক দেওয়া হবে মা-বোন সবাই প্রস্তুত থাকবেন। আন্দোলন করে সরকারকে হটাতে হবে।
খালেদা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে ভালোবাসে না, মঈন-ফখরুদ্দিনের সঙ্গে হাসিনার আঁঁতাত রয়েছে। আমার সঙ্গেও তাদের কথা হয়েছিলো। কিন্তু আমি দেশের বাইরে যাইনি, তাই আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি বলেছি এই দেশ আমার একমাত্র ঠিকানা। এছাড়া আর কিছু নেই। তাই আমার ছেলেদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের সবকিছু খেয়ে ফেলেছে সরকার। এখন সুন্দরবন খাওয়া শুরু করেছে। এ সরকারকে এক দিনও থাকতে দেয়া যায় না।
ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বলেন, এ সরকারকে জনগণ মানে না। সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ ফুঁসে উঠছে।

জনসমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ড. আব্দুল মঈন খান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মীর সরফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, রাজিব আহসান প্রমুখ। ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- শফিউল আলম প্রধান, মুজিবুর রহমান, ডা. রেদওয়ান উল্ল­াহ সাহিদী, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, মোস্তফা জামাল হায়দার, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, খন্দকার গোলাম মোর্তজা, অ্যাডভোকেট আব্দুল মবিন প্রমুখ।