অগোছালো আয়োজনে অরিজিতের সুরের স্বস্তি

সাধারণত সময় কাটানোর জন্যই এ ধরণের কনসার্টে ওয়ার্মআপ শিল্পীদের নেয়া হয়। তবে সেক্ষেত্রে আরও খানিকটা বাছাইকৃত শিল্পী নিলেই পারতেন আয়োজকেরা। কর্নিয়া, রেশমি ও ইমরান তাদের বেসুরো কণ্ঠে ভারতের অতিথি বাদকদের হাস্যরসের জোগান দিয়েছে। নবাগতা কর্নিয়ার অ্যালবাম রিলিজ পেলেও নিজের একটি গানও করলেন না স্টেজে।  ইমরান তার সফটওয়ার কণ্ঠ দিয়েই যে এতদিন সিডি বিক্রি করিয়েছেন তার প্রকট প্রমাণ পাওয়া গেল। এদিন তার গানের চাইতে নিজের পোশাকি স্টাইলেই নজর দেখা গেল। পাশ থেকে এক দর্শক বলে উঠলেন আমাদের সাবিনা আপার আমন্ত্রণে বিটিভিতে যাইতে পারল না অথচ এইখানে নিজের ফ্যাশন শো করতে চলে এসেছে !
আয়োজনে চরম অব্যবস্থাপনা
সন্ধ্যা পার হতেই কনসার্ট প্রাঙ্গণ প্রায় ভরে উঠল। তবে এত জনপ্রিয় একজন শিল্পী হিসেবে দর্শক প্রায় হাতে গোনার মতো। আয়োজনের সিস্টেমেও ছিল বেশ ঘাটতি। ‘সিলভার’, ‘গোল্ড’ ও ‘প্রিমিয়াম’ ক্যাটাগরিতে বসার স্থান নির্ধারিত থাকলেও সেই সিস্টেমের কোনো পাত্তাই ছিল না। যে যার মতো বসে যাচ্ছে। তাহলে এত টাকা দিয়ে যারা শোটি দেখতে এসেছে তারা কি করবে! আনকোরা আয়োজকদের সেদিকে খেয়াল নেই। বরং সিকিউরিটি গার্ডগুলোই তাদের পেশাগত দায়িত্ব ছেড়ে কনসার্ট দেখায় মশগুল। প্রেস কার্ডের ব্যাপারেও ছিল খামখেয়ালি। অধিকাংশ পত্রিকার বিনোদন সাংবাদিকদের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে!
এক মিনিট নিরবতা পালন . . .
সব পারফর্মেন্স শেষ। এখন শুধু অপেক্ষা অরিজিত্। তবে এর আগে বিজয় মাস উপলক্ষে ত্রিশ লক্ষ শহীদদের স্মরণ করে তাদের জন্য এক মিনিট নিরবতা পালন করা হলো।
প্রতিক্ষার মুহূর্ত বাড়ছিল . . .
উপচে পড়া ভিড় ছিল না কনসার্টে। বেশ ফাঁকা ফাঁকা সবার অবস্থান। স্টেজে উপস্থাপনায় ছিলেন এহতেশাম ও নাবিলা। দর্শকদের ধরে রাখার বেশ চেষ্টা তাদের। কারণ এতক্ষণে দর্শকরা প্রায় ধৈর্য হারা। সবার গলায় চিত্কার ‘অরিজিত্ ... অরিজিত্  ...’। এরই মধ্যে স্টেজে নাচ নিয়ে এলো নিরব এবং শখসহ অন্যান্য শিল্পীরা। তাদের নাচ কিছুটা কালক্ষেপন করল। তিনটি গানের সাথে নাচ পরিবেশন করল তারা। স্টেজের আলোয় বেশ রোমান্টিক একটা মুহূর্ত তৈরি করে। নাচ শেষে আবারও স্টেজে উপস্থাপক ও উপস্থাপিকা। কিন্তু উপস্থাপকদ্বয়ের ভেতরে যে বিন্দুমাত্র সমন্বয় নেই তা স্পষ্ট হলো বারবার। উপস্থাপক এহতেশাম ঘোষণা করলেন অরিজিত্ প্রথমে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের গান দিয়ে শুরু করবেন। দর্শকদের তখন তুমুল উত্তেজনা। দেশপ্রেম বেড়ে গেল এক ঘোষণায়। অবশেষে অরিজিত্ প্রায় চলে আসার সময় হলো। স্টেজে অরিজিতের সেটআপ তৈরি হচ্ছে। সবাই প্রস্তুত।
প্রথমেই হতাশ করলেন অরিজিত্ সিং . . .
উপস্থাপকের ঘোষণা মতে প্রথম স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের গান দিয়ে শুরু করবেন। কিন্তু প্রথমেই হতাশ করলেন অরিজিত্ সিং। তার জনপ্রিয় গান ‘তুম হি হো’ দিয়েই দর্শকরা শুনতে পেল লাইভ অরিজিতের কণ্ঠ। এরপর দর্শকদের কাছে প্রথম দিনের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিলেন শুধু। কমিটমেন্ট আর কোথায় রাখলেন। অরিজিত্ বলেন, ‘প্রথমেই সবাই কাছে ক্ষমা চাইছিল ৫ তারিখের জন্য। অনেক গান হবে। কোনো কথা না।’ কয়েকটি বাক্য দিয়ে সেরে নিলেন নিজের কথা। একে একে তার জনপ্রিয় হিন্দি গান গেয়েই চলল। তবে বরাবরের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সের মধ্য দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে নিলেন অরিজিত্। নিজের কণ্ঠের যাদু ছড়িয়ে দিতে লাগলেন তিনি। মাঝে যমুনা শপিং মলের এলইডি লাইটের ব্যাপারে বিরক্ত প্রকাশ করে সেগুলো বন্ধ করার অনুরোধ করলেন। আয়োজকদের খামখেয়ালি আর অব্যবস্থাপনার ভেতরে অরিজিতের অনবদ্য পারফর্মেন্সই যেন দর্শকদের সব ভোলাতে চেষ্টা করল।