বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অস্থিরতার হুমকি, দুর্নীতি আর অবকাঠামো দুর্বলতাকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিও মজীনা। এর বাইরে মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাব, সুশাসন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব অন্যতম চ্যালেঞ্জ।’ রাজধানীর একটি হোটেলে এক ভোজসভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এ ভোজসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আফতাব-উল ইসলাম।
ড্যান মজীনা বলেন, ‘এ সব চ্যালেঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের অঙ্গীকার এবং সদিচ্ছা থাকলে এ সব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এটি করা সম্ভব হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশ থেকেও বিনিয়োগ আসবে। বিনিয়োগ বাড়তে থাকলে বাংলাদেশ এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক টাইগার হিসেবে আবির্ভূত হবে।’
মজীনা বলেন ‘উভয় দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে।’
ড্যান মজীনা বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে গার্মেন্টস খাত, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ ও তথ্য প্রযুক্তি খাত বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তাজরীন অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধস দেশের গার্মেন্টস খাতের কমপ্লায়েন্স (কর্মপরিবেশ) প্রতিষ্ঠায় অপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে। কারখানার অগ্নি ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শ্রমিকের অধিকারের প্রতি সম্মান আর অবাধ ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দুটি বড় দুর্ঘটনার পর ক্রেতা (বায়ার), উন্নয়ন সহযোগী, সরকার আর মালিকপক্ষ এ খাতের উন্নয়নে এগিয়ে এসেছে, যা অতীতে দেখা যায়নি। এ খাতের সংশ্লিষ্টদের গতিশীল নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক পোশাকের বাজারে ব্র্যান্ড বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে। এ ছাড়া, আগামী বছর থেকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরী থেকে চামড়াজাত পণ্য উত্পাদন শুরু হলে বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের চামড়া ও পাদুকা শিল্পের উদ্যোক্তারাও বাংলাদেশের এ খাতের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়।’
উল্লেখ্য, আগামী ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফলে অ্যামচেমের ভোজসভাটি কার্যত ড্যান মজীনার বিদায়ী সংবর্ধনায় পরিণত হয়।
অ্যামচেমের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছাড়াও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শাসসুল ইসলাম, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।