প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিজয়ের মাসে বুদ্ধিজীবি হত্যাকারীদের সঙ্গে নিয়ে জনসভা করে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আন্দোলনের হুমকি ও আল্টিমেটাম দিচ্ছেন। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার উদ্দেশ্যে তার আন্দোলনে জনগণ কোন সাড়া দিবে না। বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরো বলেন, পাকিদের দালালরা আর কোন দিন যাতে এ দেশে ক্ষমতায় আসতে ও জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিন খেলতে না পারে। সেজন্য সকলকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রবিবার বিকালে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর করতে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে, রায়ও কার্যকর হবে। আমাদের রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা আর কোনো ‘শকুনী’কে খামছে ধরতে দিব না। শহীদের রক্তভেজা পতাকা প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে রক্ষা করব। এটাই আজ আমাদের শপথ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুদ্ধিজীবী দিবসের একদিন আগে বিএনপি নেত্রী বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী রাজাকার-আলবদর নেতাদের সঙ্গে নিয়ে একমঞ্চে জনসভা করে নানা কথা বলছেন। সরকার উত্খাতের হুমকি দিচ্ছেন। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের দুই মাস থেকেই বিএনপি-জামায়াত সরকার উত্খাতে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। কিন্তু রাখে আল্লা মারে কে। যাদের পরামর্শে উনি (খালেদা জিয়া) নির্বাচনে না গিয়ে ঠেকানোর নামে শত শত মানুষকে হত্যা করেছেন, তাদের পরামর্শেই উনি এখন সরকারকে আল্টিমেটাম দিচ্ছেন। কিন্তু দেশের জনগণ তার কোন ষড়যন্ত্রই বাস্তবায়িত হতে দেবে না।
‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি’- খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ না করলে করেছে কে? বিএনপির তখন তো জন্মই হয়নি। কোন নেতা ও কোন দলের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে? মুক্তিযুদ্ধের সময় উনি কোথায় ছিলেন? এ কথা কি খালেদা জিয়া দেশবাসীকে বলবেন?
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল জিয়াউর রহমানই একে একে সব যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দেন, যুদ্ধাপরাধীদের ভোটের অধিকার, জামায়াতের রাজনীতির অধিকার ফিরিয়ে দেন, এমনকি গোলাম আযমকে পাকিস্তানকে থেকে ফিরিয়ে আনেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন এমপি, মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি, এম এ আজিজ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আসাদুজ্জামান খান কামাল, কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, কামরুল ইসলাম, শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের পুত্র তৌহিদ রেজা নূর, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী।