রিয়েলিটি শো’র বিচারকের স্থানে অযোগ্যরা

অনেক চ্যানেলই রিয়েলিটি শো’র বিচারকের স্থানে অযোগ্যদের বসিয়ে দিচ্ছে
দীর্ঘ চার বছর পর নিজের নতুন অ্যালবাম নিয়ে এলেন দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শুভ্রদেব। নিজের নতুন অ্যালবাম ও বর্তমান অডিও বাজারের হাল-চাল নিয়ে সম্প্রতি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দিব্যজ্যোতি দত্ত।
 
বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই।
মাত্রই আমার নতুন একক ‘জল-ছবি’ বাজারে এলো। এই অ্যালবামের ‘ফিরে দেখা’ শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিও’র কাজ শেষ করলাম। সামনে আমার ক্যারিয়ারের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘শুভ্রদেব গোল্ডেন কালেকশন ১,২’ বের করব। ‘জল-ছবি’ ছাড়া আমার বাকি যে ২৫টি একক রয়েছে তার থেকেই এই নতুন দুটি অ্যালবাম বের করা হবে।
 
‘জল-ছবি’ অ্যালবামে কেমন সাড়া পেলেন?
খুব ভাল সাড়া পাচ্ছি। ৫টি কোম্পানি অ্যালবাম বিতরণের দায়িত্ব নিয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনও রয়েছে। এর আগে গত রোজার ঈদে জল-ছবির গানগুলো জিপি কলারটিউনে বের করা হয়। তখন থেকেই ভাল সাড়া পাচ্ছি। তাছাড়া আগামী সপ্তাহ থেকে অ্যালবামটি সাড়া বিশ্বেই পাওয়া যাবে। অ্যালবাম বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রতিবন্ধী ও পথশিশুদের একটি স্কুলের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা হবে।
 
ইন্ডাস্ট্রির এই অবস্থায় অ্যালবাম থেকে ব্যবসায়িক লাভ কতটা আশা করছেন?
দেখুন, আমি আগেও বলেছি যে ব্যবসায়িক লাভের কথা চিন্তা করে আমি অ্যালবাম করি না। আমি আমার সন্তুষ্টির জায়গা থেকে কাজগুলো করি। দীর্ঘ বিরতির পর আমি অত্যন্ত যত্নের সাথে এই অ্যালবামের কাজ করেছি। আর এটা সত্যি বর্তমানে অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা ভাল নয়। এর কারণ এখন সহজেই গানগুলো পাওয়া যায়। এছাড়া অনলাইন ও পাইরেসির ব্যাপার তো রয়েছেই। এসব সমস্যার কথা চিন্তা করেই ‘জল-ছবি’ নতুন ফর্মূলায় বাজারে আনা হয়েছে।
 
এই ফর্মূলায় কি ইন্ডাস্ট্রির অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করেন?
চেষ্টা তো করছি। আমি যেভাবে চেষ্টা করছি অন্যরাও যদি চেষ্টা করেন তাহলে তো এই অবস্থার উন্নতি সম্ভব। নতুন ফর্মূলার মাধ্যমে আমাদের অডিও বাজারের উন্নতি হতে পারে। আশা করছি এই সমস্যা আমরা অচিরেই কাটিয়ে উঠতে পারব।
 
ইন্ডাস্ট্রির এই অবস্থায় ব্যানারগুলো কিভাবে টিকে আছে?
কেউ কেউ ভাল করছে। মার্কেটের অবস্থা বুঝেই তারা কাজ করছে। অন্যরাও যার যার মার্কেট পলিসি অনুযায়ী কাজ করছে। আর এই অবস্থা তো সবসময় থাকবে না। এই অবস্থার পরিবর্তন হবে।
 
 
সেলিব্রেটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়ে কিছু বলুন।
স্বাগতিক বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান এই তিন দেশের অংশগ্রহণে সম্ভবত আগামী ফেব্রুয়ারিতে তিনদিনের এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের পর্দা নামতে যাচ্ছে। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পক্ষে আমি ছাড়াও খেলবেন নোবেল, নিরব, ইমন, আমিন খান, তাহসান, মীর সাব্বিরসহ আরও অনেকে।
 
এখনকার রিয়েলিটি শো নিয়ে বলুন। রিয়েলিটি শো থেকে যারা আসছে তারা একের পর এক বেয়াদবী করছে। যেমন সম্প্রতি সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে ইমরানের ঔদ্ধত্তের খবর এসেছে। এছাড়া যারা বিচার কাজ করছে তারা কতটা যোগ্য অবস্থানে আছে বলে আপনি মনে করেন।
এক্ষেত্রে একটা কথা বলতে হয় যে একটা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানোর পর কেউ বিচারক হতে পারেন। আমাদের দেশের অনেক চ্যানেলই রিয়েলিটি শো’র বিচারকের স্থানে অযোগ্যদের বসিয়ে দিচ্ছে। যার ফলে দেখা যায় বিচারকের জন্যই একজন ভাল প্রতিযোগী বাদ পড়ে যাচ্ছেন। আমরা পার্শ্ববর্তী ভারতের রিয়েলিটি শোগুলোর দিকে যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পারি যে সেখানে যোগ্য ব্যক্তিরাই বিচারকের স্থানে বসেছেন। একজন বিচারকের সঙ্গীতের সব কিছুর ওপরেই জ্ঞান থাকতে হবে। নয়তো বিচারকের বিচার নিয়েই তো প্রশ্ন উঠে যায়। এছাড়া এই ধরনের বেয়াদবীর কথা আমি শুনিনি। তবে যদি ঘটনাটি ঘটেই থাকে তা খুবই নিন্দনীয়।